ঢাকা, শুক্রবার 7 May 2021, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮, ২৪ রমযান ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বিবিসির অনুসন্ধান : পাচারে জড়িত থাইল্যান্ডের একটি পুরো গ্রাম

বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেডের অনুসন্ধানে থাইল্যান্ডে মানব পাচারের ভয়ঙ্কর রূপ বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে নেমে এই সাংবাদিক দেখেছেন, কিভাবে একটি পুরো গ্রাম শুধুমাত্র টাকার জন্য পাচারকারীদের সাহায্য করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে কিছু থাই স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে থাই জঙ্গল চষে বেড়িয়েছেন এ সাংবাদিক। দেখেছেন জঙ্গলে অভিবাসীদের ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন। শুনেছেন কিভাবে গ্রামবাসী মানব পাচারে এসব পাচারকারীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে অাসছে।

থাই জঙ্গলে মানব পাচার এখন অনেক বড় এক ব্যবসা। এ ব্যবসাটি হলো ইকো সিস্টেমের মত। প্রতিটি ধাপেই কেউ না কেউ আছে যারা পরবর্তী ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আশে পাশের গ্রামের গরীব মানুষদের নিত্যদিনের আয়ের তুলনায় মানব পাচারে অনেক বেশি অায়ের সুযোগ থাকায় সবাই ঝুঁকছেন এ পেশায়।

এখানকার ব্যবসার মডেল হচ্ছে পাচারকারীরা তিনশ অভিবাসীবাহী একটি নৌকা প্রায় বিশ হাজার ডলারে কিনে নেয়। এরপর অভিবাসীদের নিয়ে আসে ঘন জঙ্গলে। সেখান থেকেই প্রত্যেক অভিবাসীর অভিভাকদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মাথাপিছু দুই থেকে তিন হাজার ডলার মুক্তপণ নেয়া হয়, যেটা এসব গ্রামবাসীদের জন্য যথেষ্ঠ।
কিন্তু পাচারকারীরা কিভাবে গ্রামবাসীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে? জনাথন হেড বলেন, থাই জঙ্গল থেকে নিকটবর্তী শহর হাট ইয়াইয়ে যেতে আনুমানিক ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে। ক্যাম্পের পাশের গ্রামের এক থাই মুসলিম বালক বলছিলেন, কিভাবে তিনি এ পেশায় জড়িয়ে পড়লেন।
‘কয়েক বছর পূর্বে আমি পাখি শিকার করতে করতে এরকম একটি ক্যাম্পে চলে আসি। ক্যাম্পগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখি আমি। তখন থেকেই আমরা পালিয়ে আসা অভিবাসীদেরকে আশ্রয় দিতে শুরু করি।
গ্রামবাসীরা এটার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রচুর টাকা আছে। পাচারকারীরাই আমাদের কাজে লাগায়। ক্যাম্প পাহারা দেয়া, রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার নিয়ে আসা ইত্যাদি কাজ করতে হয় আমাদের। পাচারকারীরা প্রত্যেক ঘরে ঘরে গিয়ে এসব কাজ করার জন্য মানুষের খোঁজ করে। আমাদেরও সুবিধা। রাবার বিক্রির টাকার সঙ্গে এটা একটা বাড়তি আয়।

এ যুবক বলছিলেন, গ্রামের যুবকদেরকে এরা বিভিন্ন সময় মাদক দিয়ে থাকে, যাতে তারা পাচারকারীদের পক্ষে কাজ করে। এর ফলে কোন অভিবাসী যদি ক্যাম্প থেকে পালিয়েও আসে, তাহলে সে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা খায় এবং কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হয়।

এদিকে এ ভয়াবহ ও নৃশংস মানব পাচারের সঙ্গে থাই কর্তৃপক্ষেরও জড়িত থাকার অভিযোগ অাসছে। বলা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের সায় ছাড়া এত বিশাল পরিসরে মানব পাচার সম্ভব নয়। তবে কর্তৃপক্ষ ঠিক কতটা জড়িত আছে এখানে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
-প্রিয় ডট কম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ