সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২
Online Edition

বিপন্ন মানুষ, প্রাণ প্রকৃতি; ঝুলন্ত তিস্তা চুক্তি : একটি ভৌগোলিক মূল্যায়ন

(গতকালের পর)
আখতার হামিদ খান : তাছাড়া ট্রানজিটসহ যে কোনো ইস্যু নিয়ে এ দেশের সরকারকে আরও সর্তকতার সঙ্গে এগোতে হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, ভারতের সঙ্গে যে কোন চুক্তি জনগণের কল্যাণে হতে হবে। সে জন্য ভারত সরকারকে ছাড় দিতে হবে। ভারতকে একতরফা লাভবান করার জন্য কোনো চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গাইবান্ধা। নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা। নদীর পানি এতরফা প্রত্যাহার করে উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমি করে ট্রানজিট আশা করা ঠিক না। এক্ষেত্রে ভারতকেই নমনীয় হতে হবে। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের সঙ্গে যে কোনো ধরনের চুক্তি জনগণের কল্যাণে করার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনীতির বলি তিস্তা
ছয় দশক আলোচনা ও দরকষাকষির পর তিস্তার পানি বন্টনে প্রত্যাশিত চুক্তি নিয়ে কলকাতা, ঢাকা ও দিল্লিতে যে নাটকীয়তা তৈরি হলো, তা নিয়ে যত কম বলা যায় ততই মঙ্গল। কেউ যদি বলেন, এই চুক্তি অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দুই দেশে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, তা পানসে হয়ে গেছে, দোষ দেওয়া যাবে কি? বহুল প্রত্যাশিত এই সফরের আগের শেষ দু’দিন যখন সংবাদমাধ্যমে অনেকের হার্ট ‘ব্রেকিং’ নিউজ চলছিল, তখন দুই দেশের নেতৃত্বের মানসিক অবস্থা নয়, বহু প্রত্যাশা নিয়ে তাকিযে অপেক্ষা করা কোটি কোটি মানুুষের মলিন মুখ নয়, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নয়, মনে পড়ছিল রামস্বামী আইয়ারের কথা।
গত বছর নভেম্বরে ঢাকায় গাঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার পানিসম্পদভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সেমিনারে যোগ দিতে এসেছিলেন ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ রামস্বামী আর আইয়ার। খোঁজখবর যারা রাখেন, তাদের কাছে এই নাম অপরিচিত নয়। আশির দশকে দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন ভারতের পানিসম্পদ সচিব। পরে যোগ দিয়েছেন দিল্লির সেন্টার ফর পলিসিতে। ভারতের প্রথম জাতীয় পানিনীতি প্রণয়নে তিনি ছিলেন মূল খসড়াকারক। বস্তুত গত তিন দশকে পানি ব্যবস্থাপনা, জলবিদ্যুৎ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি বন্টনে দয়াদিল্লি যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে মি. আইয়ার যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেওশ ‘বহুবার’ এসেছেন। ওই সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ঠাট্টাচ্ছলে বলছিলেন যে বাংলাদেশে সেটা তার ২৫তম সফর। পানিসম্পদ নিয়ে  তার রচিত ও সম্পাদিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে এবং সেগুলো দেশে-বিদেশে যথেষ্ট আদৃত।
পানি বণ্টন সংক্রান্ত দরকষাকষিতে রামস্বামী আইয়ারের তৎপরতা ও কৌশল কখনও কখনও প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিরা অপছন্দ করেছেন বটে; তার দক্ষতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তার আরেকটি দোষ বা গুণ হচ্ছে নিঃশব্দে কাজ করা এবং যথাসাধ্য সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলা। ফলে সেবার তার বাংলাদেশ সফর ছিল নিভৃতেই। আমন্ত্রণপত্রে নাম দেখে ওই সেমিনারের শীর্ষ আয়োজককে অনুরোধ করেছিলাম একটা অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দিতে। আইয়ার তার দীর্ঘদিনের বন্ধু। বন্ধুর সৌজন্যেই ভোরে দিল্লির দিকে উড়াল দেওয়ার আগের রাতে ডিনারের পর আমাকে মিনিট দশেক সময় দিয়েছিলেন এই ভারতীয় বিশেষজ্ঞ। তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন, গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির অনাকাঙ্খিত পরিণতি, টিপাইমুখ বাঁধ, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প, হিমালয় অঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রভৃতি বিষয়ে আমি যতটা আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইছিলাম, উত্তরে ততটা আন্তরিকতা ছিল না। তিনি বরং গৎবাঁধা কিছু অফিসিয়াল ভাষ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বলছিলেন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসব সব ইস্যুতে ভারত সবসময় আন্তরিক। দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় যে বৈঠক হচ্ছে, আলোচনা চলছে, এমনকি গঙ্গা নিয়ে দুই দফা চুক্তি হয়েছে। ভারত সাড়া না দিলে এগুলো কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদী নিয়ে যে সামান্য জ্ঞান-বুদ্ধি হয়েছে, তা সম্বল করে এই বিশেষজ্ঞকে পাল্টা জিজ্ঞাসা করেছিলাম- পানি বণ্টন ইস্যুতে দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে এত যোগাযোগ, বৈঠক, আলোচনা হয়েছে; তারপরও বিষয়টি দশকের পর দশক ঝুলে থাকছে কেন? কোথায় প্রতিবন্ধকতা? কয়েক দশকের চেষ্টায় কেবল একটি নদীর পানি বণ্টন (হোক অসন্তোষজনক) চুক্তি সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫৩ নদীর ব্যাপার সুরাহা করতে আরও কত দশক লাগবে? রামস্বামী আইয়ার বেশ কিছুক্ষণ চুপ করেছিলেন। তারপর যা বলেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট মনে আছে।’ এটা আসলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন দুই দেশে রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ ছিল কিংবা খুব ভালো ছিল না, তখন দেখা গেছে পানি বণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যুরই সমাধান কঠিন। আবার যখন রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যার সমাধান সহজ হয়েছে। রাজনৈতিক সুসম্পর্কই দুই দেশের পানি সংকট সমাধানের চাবিকাঠি। আপনি দেখবেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্ভব হয়েছিল। তিনি আবার ক্ষমতায় এসেছেন, এখন তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা সঠিকপথে এগোচ্ছে।’
বস্তুত কেবল মি আইয়ার নন, এমন কথা বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদেরও কেউ কেউ বলে আসছেন। বিশষ করে শ্রদ্ধেয় বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। আজ থেকে আধা যুগ আগে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে যখন উত্তর দিগন্তে কিছুই স্পষ্ট নয়; তিনি বলেছিলেন, সীমান্তের উভয় পারে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া তিস্তার পানি পাওয়া যাবে না। তারপর তার কাছে আরও বহুবার শুনেছি, বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ইস্যু কারিগরি নয়, রাজনৈতিক। রাজনৈতিক নেতৃত্ব আন্তরিক হলে পানি ভাগাভাগির কারিগরি সমাধান মোটেই কঠিন নয়। কিন্তু একই কথা যখন রামস্বামীর মতো কেউ বলেন, তখন তার তাৎপর্য ভিন্ন।
অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগী তো বটেই, অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত অগ্রগতি হচ্ছে না কেন, এ জন্য বরাবরই ভারতীয় আমলান্ত্রকে দায়ী করা হয়ে থাকে। বলা হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে উন্নয়নে আগ্রহী; আমলাতন্ত্রই তা ঠেকিয়ে রাখে। কিন্তু ভারতীয় ডাকসাইটে আমরা বলছেন; মূল চবি রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। মনমোহন সিংয়ের দু’দিনের ঢাকা বণ্টন নিয়ে যা যা হলো, তাতে কি মি. আইয়ারের বক্তব্যের সারবত্তাই প্রমাণ হলো না? প্রায় ছয় দশক ধরে যে তিস্তার ব্যাপারে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি ছিল না; সীমান্তেও উভয় পাশে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে মুখ দেখছিল। আবার পশ্চিমবঙ্গের মূখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই তো আপত্তি দেখা দিল।
শেষ কয়েকদিনে দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। তিস্তার পানি কী অনুপাতে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন হচ্ছে, তা নিশ্চিত জানা ন গেলেও সবাই আশাবাদী ছিল যে চুক্তি হচ্ছে। প্রায় ছয় দশকের দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত ১৫ বছরের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল দুই প্রতিবেশী। সিকিম থেকে তুষার টোপর মাথায় দিয়ে যে নয়নাভিরাম নদী আবহমানকাল থেকে আপন মনে সবুজ সমতলে এসে মিশত, বাঁধ ও ব্যারাজের কারণে তা গত তিন দশকের নিজের মতো বহমান থাকেনি। আশা করা হচ্ছিল, ‘শুভেচ্ছা কূটনীতির’ ফলে বিলম্বে হলেও এই চুক্তির পর ধীরে ধীরে আগের মতো বইতে শুরু করবে তিস্তা। বাংলাদেশ থেকে যদিও পানির হিস্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছিল যে ঢাকা বঞ্চিত হচ্ছিল না। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিতেই যেন তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এবং তিস্তা অববহিকার বড় ভূখণ্ড পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপেই শেষ পর্যন্ত পিছু হটে মনমোহন সরকার।
মনমোহন সিংয়ের সফরের আগে আগে এমনও প্রত্যাশা করা হচ্ছিল যে তিস্তা সমস্যার সমাধান তো বটেই; পানি-সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে প্রতিবেশী দুই দেশ। পানি বণ্টনের পাশাপাশি অভিন্ন অর্ধশতাধিক নদীকে কেন্দ্র করে নৌ-পরিবহন, জলবিদ্যুৎ, বন্যা পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণ, দূষণ রোধ, সীমান্ত ভাঙন ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং, সেচ- এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নতুন মাত্রা পাবে সামনের দিনগুলোতে। শোনা যাচ্ছিল, অভিন্ন নানা ইস্যুতে বাংলাদেশের আন্তরিকতা স্পষ্ট হওয়ায় দুই দেশের পানি-সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতীয় আমলাতন্ত্রেও সুচিত হয়েছে গুণগত পরিবর্তন। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ফাঁক রেখে যে কারিগরি সমাধান সম্ভব নয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেটাই আরেকবার প্রমাণ হলো মাত্র।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রহসন :
শুধু মমতাকে দোষারোপ করলে সত্য আড়ালে থেকে যাবে। তিনি দায়টা প্রকাশ্যে কাঁধে নিয়েছেন মাত্র। আরও মনে রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতে মমতা সমালোচিত (তাও বামদের একাংশ সোচ্চার) হয়েছেন শিষ্টাচার না দেখানোর প্রশ্নে। বাংলাদেশে মমতার যাওয়া এবং আগেই বলা উচিত ছিল, এটুকুই সারকথা। তবে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর ঘুম নাই ভাবমূর্তির রোশনাই আরও বেড়েছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তুতি কতটা ভঙ্গুর ও সন্দেহপূর্ণ ছিল, তা বুঝতে আনন্দবাজার পত্রিকায় জয়ন্ত ঘোষালের প্রতিবেদনের একটি বাক্য যথেষ্ট। জয়ন্ত লিখেছেন, ‘মমতার আপত্তি দূর করাই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের বড় মাথাব্যথা। ভারতের বিদেশসচিব রঞ্জন মাথাই গতকালই জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো অঙ্গরাজ্যের সম্মতি ছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তি করা সম্ভব নয়।’ তাহলে কি তারা মমতাকে ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করার প্রস্তুতি নিয়েছিল? এটাই কি বাংলাদেশ সফরে মনমোহনের ‘সর্বোচ্চ গুরত্ব’ প্রদানের নমুনা?
ভারতীয় ও ঢাকার পত্রপত্রিকায় মমতাকেন্দ্রিক বিরক্তি প্রকাশ যে ত্রুটিপূর্ণ, তার স্বরূপ উদঘাটন জরুরি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশকে ২৫ শতাংশের বেশি পানি দেওয়ার বিরোধিতায় মমতা ও বামরা এককাট্টা। বহুদিন বাদে পশ্চিমবঙ্গে বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খাচ্ছে, অন্তত প্রকাশ্যে। কংগ্রেস বাদ্যি বাজাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের গোটা সংবাদমাধ্যম ‘রাজ্যের স্বার্থ’ দিদির দূরদরির্শতায় অল্পের জন্য রক্ষে পাওয়ায় যারপরনাই সন্তুষ্ট। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বামফ্রন্ট মতৈক্যে পৌঁছেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত কলকাতায় তিনি স্মারকলিপি দেন। তখন তিস্তা প্রকল্প দ্রুত শেষ করা ও পূর্ণাঙ্গভাবে সমাপ্ত করার অনুরোধ তাকে তিনি জানান। বিধানসভায় সেচ দপ্তরের বাজেট-সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। সেচমন্ত্রীকে বলেছিলেন রাজ্যের সরকারপক্ষ ও বিরোধীরা একসঙ্গে গিয়ে কেন্দ্রকে তিস্তা সম্পর্কে মতামত জানাতে। এরপর দিল্লিতেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়ে একই কথা বলেছিলেন।
বামফ্রন্টের মুখপাত্র দৈনিক গণশক্তির একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘এত দিন দৃঢ় আপত্তি জানিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারই/ কেন্দ্রের প্রস্তুতির অভাব/ প্রশ্ন উঠছে মমতার শেষ মুহূর্তের চমক নিয়েও। গণশক্তির সুরে মমতার তিস্তানীতি ভক্তি খুবই স্পষ্ট। বামদের সাবে সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর গণশক্তিকে বলেন, ‘সেচমন্ত্রী থাকাকালে আমি নিজে আলোচনার জন্য বাংলাদেশে গেছি, দিল্লিতেও গেছি। রাজ্যের স্বার্থে আমরা দৃঢ় ছিলাম। ২০১০ সাওে আমরা যে লিখিত প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছিলাম, তাতে ২৫ শতাংশের বেশি জল ছাড়ায় আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছিলাম। ১৫ বছরের জন্য চুক্তি হবে। জাতীয় প্রকল্পঘোষিত হওয়ায় তার মধ্যে তিস্তা প্রকল্পের কাজ অনেক এগিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিস্তায় যদি জলই না থাকে তাহলে আমাদের কী লাভ হবে?’
পশ্চিমবঙ্গের নেতারা রাজ্যের স্বার্থ দেখলেন। তিস্তা চুক্তির পানির ভাগাভাগি প্রশ্নে ন্যায্যতা বা সমতার প্রশ্ন তুললেন না। তাঁরা চুক্তি চান। বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চান। কিন্তু খোদ বিরোধী দলনেতাই বলছেন, ‘দেশের ও রাজ্যের ক্ষতি করে জলবন্টন করার আমরা বিরোধী ছিলাম। নতুন খসড়ায় কী আছে, তা আমরা বলতে পারব না। তবে আমরা ভারতের প্রাপ্য জলের পরিমাণ ৫০-৫২ শতাংশে নামিয়ে আনার বিরোধী ছিলাম, এখনো আছি।’ (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ