সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২
Online Edition

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা

আবারও সশস্ত্র হামলার কবলে পড়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গত সোমবার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কারওয়ানবাজার এলাকায় গণসংযোগ করার সময় তার গাড়িবহরের ওপর এই হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে। বিএনপি নেত্রী অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও তার সঙ্গে থাকা দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পিটিয়েছেও। হামলাকারী অনেকের ছবিসহ এসব দৃশ্য বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে আক্রমণ ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা হাজির করেছেন সম্পূর্ণ বিপরীত ভাষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে বসেছেন, সরকারের পতন ঘটানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে খালেদা জিয়া নাকি ‘নাটক’ করতে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই সাথে জানিয়েছেন, এই হামলা নাকি খালেদা জিয়ার হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ! আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও একই সুরে বলেছেন, দলের লোকজন নয় বরং ক্ষুব্ধ জনগণই বিএনপি নেত্রীকে কালো পতাকা দেখাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। হামলাও নাকি বিএনপি আগে করেছে। খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সিএসএফ-এর একজন সদস্য নাকি কালো পতাকা নিয়ে আগতদের ওপর গুলী চালিয়েছিলেন এবং তারই প্রতিবাদে জনগণ প্রাতিরোধ গড়ে তুলেছিল! অর্থাৎ খালেদা জিয়া নিজেই সবকিছুর জন্য দায়ী! উল্লেখ্য, সোমবারই প্রথম নয়, আগের দু’দিনেও গুলশান এবং উত্তরা এলাকায় বিএনপি নেত্রীর গাড়িবহরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। উভয় দিনই হামলাকারীদের হাতে কালো পতাকা দেখা গেছে।
আমরা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের ওপর সশস্ত্র হামলা ও ভাংচুরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মনে করি, নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালানোর সময় হামলা চালানোর ভয়ংকর কর্মকা-কে হাল্কাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে যদি প্রধানমন্ত্রীর এবং ক্ষমতাসীন অন্য নেতাদের বক্তব্যকে মিলিয়ে দেখা যায় তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে, বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত অভিযোগ অসত্য নয়। সবকিছুর পেছনে আসলেও সুচিন্তিত পূর্ব-পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত বলার দরকার পড়ে না। বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো সিটি নির্বাচনে অংশ নিক সেটা ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছেন না। তারা বরং যে কোনোভাবে, এমনকি সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হলেও জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে ঠেলে দেয়ার এবং ধাওয়ার মুখে ব্যতিব্যস্ত রাখার অপকৌশল নিয়েছেন। সোমবারও সে নীতি ও উদ্দেশ্যেরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। তাদের ধারণা ছিল, বিশেষ করে খালেদা জিয়াকে যদি কোনোভাবে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে নিবৃত্ত করা যায় তাহলে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা কোনো সিটি করপোরেশনেই জিততে পারবেন না। অনেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ফলে অংশ নেয়ারও সুযোগ পাবেন না। তেমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের সামনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না এবং দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনা ও সিটি করপোরেশন তিনটি দখল করে নেয়া সহজ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের সব ভাবনাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তারা সম্ভবত ভাবতেই পারেননি যে, তিন মাসের বেশি সময় ধরে দমন-নির্যাতন, গুম-খুন এবং মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের অভিযান চালানোর পরও বিএনপি-জামায়াত সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং প্রচারণায় নামার পরই দল দুটি এত বিপুল জনসমর্থন পেয়ে যাবে। এ পর্যায়ের সত্য হলো, জনগণ বিশ্বাসই করেনি যে, বিএনপি ও জামায়াতের মতো গণতন্ত্রমনা দলগুলো নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডে বা ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে জড়িত হতে পারে। পেট্রোল বোমায় ও আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মিথ্যা কিন্তু সর্বাত্মক প্রচারণাও তাই হালে পানি পায়নি। এজন্যই বেগম খালেদা জিয়া গণসংযোগে নামার পর মুহূর্ত থেকেই হাজার হাজার মানুষ তার সমর্থনে রাজপথে নেমে এসেছে। একই কারণে শুরু হয়েছে নতুন পর্যায়ে হামলা।
আমরা মনে করি, এ ধরনের সশস্ত্র হামলা ও মারমুখী কর্মকান্ড কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় নেত্রীকে তো বটেই, রাজনৈতিক দল ও পরিচিতি নির্বিশেষে প্রত্যেককেই বাধাহীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেয়া উচিত। এ ব্যাপারে প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের সমর্থক নেতাকর্মীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশন যথোচিতভাবে পালন করবে বলেই আমরা আশা করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ