ঢাকা, বুধবার 23 September 2020, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ৫ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে ৩ ও রাজশাহীতে ২ কলেজ ছাত্র আটকের পর আদালতে না তোলায় পরিবারের উদ্বেগ

# রাজশাহীর ২ ছাত্রের সাথে সকালে দেখা করে স্বজনরা॥ পরে অস্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কদমতলীতে বাসার সামনে থেকে পুলিশ কর্তৃক আটকের পর ৩ কলেজ ছাত্রকে আদালতে না তোলায় উদ্বেগ প্রকাশ ও অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার দাবী জানান তাদের স্বজনরা। গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ডঃ মাহবুবর রহমান মোল্লা কলেজের ছাত্র সাইদুল ইসলাম, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার ছাত্র হাসান রাব্বি, সিটি কলেজের ছাত্র নাকিবুল আরেফিনকে আটক করে পুলিশ। এ দিকে  গত সোমবার রাত ১টার দিকে রাজশাহী শ্যামপুর বাসা থেকে ২ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে স্বীকার করে পরে অস্বীকার করায় উদ্বেগ প্রকাশ ও তাদের সন্ধান দাবী করে বিবৃতি দিয়েছে তাদের স্বজনরা। ইসলামীয়া কলেজের ছাত্র তানজিদুর রহমান রিপন ও একই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র সবুজ আলীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সবার সামনে বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিদুর রহমানের পিতা নূর ইসলাম ও সুবজ আলীর পিতা সাদেক আলী বিবৃতিতে বলেন, সকালে আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে মতিহার থানায় দেখা করি এবং খাবারও দেই। কিন্তু দুপুরে হঠাৎ করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। পুলিশের এই আচরণে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। আমাদের সন্তানদের সাথে দেখা করা ও খাবার দেয়ার পরও হঠাৎ অস্বীকারে গতকাল মঙ্গলবার তাদের স্বজনরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান।
সাইদুল ইসলামের পিতা আনোয়ার হোসেন, হাসান রাব্বির পিতা হানিফ শিকদার ও নাকিবুল আরেফিনের পিতা মাওলানা ফয়সাল আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, আমাদের ৩ সন্তান, ডঃ মাহবুবর রহমান মোল্লা কলেজের ছাত্র সাইদুল ইসলাম, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার ছাত্র হাসান রাব্বি, সিটি কলেজের ছাত্র নাকিবুল আরেফিনকে সন্ধার সময় বাসার সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু নিয়ম থাকার পরও তাদের গতকাল আদালতে না তোলা হয়নি। এ ব্যাপারে বার বার চেষ্টা করলেও পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের সন্তানদের সাথে দেখা করার সুযোগ দিচ্ছেন না। ফলে আমরা কোন আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারছিনা।
তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি। আমাদের জানা মতে, আমাদের এই তিন সন্তান কোন ধরণের রাজনীতি বা কোন প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত নয়। এর পরও আমাদের সন্তানেরা যদি কোন অপরাধ করেও থাকে, তাহলে এর জন্য দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশ বেআইনিভাবেই তাদের আদালতে হাজির করেনি। সম্প্রতি গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির না করে রাতের আধাঁরে বহু ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ফলে আমরা আরও উদ্ধিঘœ হয়ে পড়েছি। এ অবস্থায় আমরা সুবিচারের জন্য সরকার, পুলিশ ও সাংবাদিকের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। তারা আশা প্রকাশ করেন, আমাদের সন্তানরা পুলিশের কাছে নিরাপদে আছে এবং অন্যায়ভাবে তাদের উপর কোন নির্যাতন করা হবে না। আমাদের বিশ্বাস, সুবিচার হলে আমাদের নির্দোষ সন্তানেরা নিরাপরাধ প্রমাণিত হবে এবং মুক্ত হয়ে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।
রাজশাহীতে ২ ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার: গত সোমবার রাত ১টার দিকে রাজশাহী শ্যামপুর বাসা থেকে ২ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে স্বীকার করে পরে অস্বীকার করায় উদ্বেগ প্রকাশ ও তাদের সন্ধান দাবী করে বিবৃতি দিয়েছে তাদের স্বজনরা। ইসলামীয়া কলেজের ছাত্র তানজিদুর রহমান রিপন ও একই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র সবুজ আলীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সবার সামনে বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিদুর রহমানের পিতা নূর ইসলাম ও সুবজ আলীর পিতা সাদেক আলী বিবৃতিতে বলেন, সকালে আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে মতিহার থানায় দেখা করি এবং খাবারও দেই। কিন্তু দুপুরে হঠাৎ করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। পুলিশের এই আচরণে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। আমাদের সন্তানদের সাথে দেখা করা ও খাবার দেয়ার পরও হঠাৎ অস্বীকারে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। পুলিশের এই আচরণের কারণে আমরা আইনি প্রক্রিয়াও গ্রহণ করতে পারছিনা। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি।
তারা বলেন, আমাদের জানা মতে, আমাদের সন্তান কোন ধরণের রাজনীতি বা কোন প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত নয়। এর পরও পুলিশ যদি তাদের অপরাধি মনে করে তাহলে এর জন্য দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়ার কথা। আমরাও সেটাই আশা  করি। কিন্তু প্রথমে স্বীকার করার পর বার বার যোগাযোগের পরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করছেনা। সম্প্রতি রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এভাবে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে বহু মেধাবী ছাত্রকে রাতের আধাঁরে হত্যা করা হয়েছে।  আমাদের সন্তানদের নিয়ে পুলিশের এই আচরণের তাদেরও এভাবে হত্যা করা হতে পারে বলে আমাদের মনে প্রবল আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সুবিচারের জন্য সরকার, পুলিশ ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করছি, আমাদের এই দুই সন্তান পুলিশের কাছে নিরাপদে আছে এবং অন্যায়ভাবে তাদের কোন নির্যাতন করা হবে না। আমাদের বিশ্বাস, সুবিচার হলে আমাদের নির্দোষ সন্তানেরা নিরপরাধ প্রমাণিত হবে এবং মুক্ত হয়ে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ