ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে পুলিশের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আটক শতাধিক, আহত অর্ধশত

চট্টগ্রাম অফিস : নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের নাসিমন ভবনের সামনে ২০ দলের সমাবেশ চলাকালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দু’টি গাড়িসহ প্রচুর গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে।
আজ সোমবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নগরীর কাজির দেউড়ি মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাদের দাবি, বিকাল ৩টা থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কালো পতাকা সমাবেশ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি-জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনগুলো মিছিলসহ জড়ো হতে থাকে সভাবেশস্থলে। এক পর্যায়ে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন থেকে ‘গণতন্ত্র’ লেখা একটি প্রতিকী কফিন নিয়ে কাজীর দেউড়ি মোড়ে এসে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
এসময় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তাদের ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ নগরীর বিভিন্ন স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যয়ে নগরীর চট্টেশ্বরী মোড়ে সড়ক ও জনপদের দুইটিসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এছাড়াও সংঘর্ষের পর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ব্যাটারি গলি, চৈতন্য গলি, নন্দনকাননসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষ থামলে পুলিশ বিএনপির কার্যালয় ও এর আশেপাশের বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায়।
ঐসব ভবন থেকে আটক করা হয় প্রায় কয়েকশ নেতাকর্মীকে।
বিএনপি নেতারা বলেন, দুপুর থেকে পুলিশের বাধা না পেয়ে নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কালো পতাকা সমাবেশে অংশ নেয়। কিন্তু কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই পুলিশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ হামলা চালিয়ে সমাবেশ পন্ড করে দেয়। বিএনপি নেতারা দাবি করেন, মূলত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পন্ড করতেই পুলিশ এমন নগ্ন হামলা চালায়।

সংঘর্ষের পর নিউমার্কেট-ওয়াসা সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় সিইসি, টাইগারপরসহ বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে নগরীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সমাবেশে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম চৌধুরী, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল হক, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুল আলম ও আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ