ঢাকা, শনিবার 26 September 2020, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ৮ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

শেখ মুজিবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার: তারেক

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিব এখন আওয়ামী লীগের লাল সালু। এই লাল সালুকে ঘিরে থাকা ভণ্ডরাই নিজেদের স্বার্থে যাকে-তাকে রাজাকার আখ্যা দেয়।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপির আট দিনের অনুষ্ঠানমালার সপ্তম দিনে গতকাল সোমবার ইস্ট লন্ডনের দ্যা অট্রিয়াম অডিটরিয়ামে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তাদের দল নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল অথচ চোরের দল, চাটার দল আখ্যা দিয়ে শেখ মুজিব নিজেই আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এমন একটি কাজ করার জন্য তাহলে তো শেখ মুজিবই বড় রাজাকার।

তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব নিজেও বিশ্বাস করেননি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত করা হয় নাই। বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী-পুরুষকে হত্যার জন্য মূলত শেখ মুজিবই দায়ী।

আর যে হত্যা করে তাকে কি বলা হয়? নিজেই উত্তরে বলেন, ‘হত্যার জন্য শেখ মুজিবকে বাংলাদেশের অন্যতম রাজাকার বলা যায়।

তারেক রহমান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউক্লিয়াসের জনক সিরাজুল আলম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘সিরাজুল আলম খান বলেছেন- আওয়ামী লীগ হলো এন্টি লিবারেশন ফোর্স।’ তিনি এর সোজা বাংলা করে বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল।”

তারেক বলেন, “বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকালীন দল বটে তবে মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। এ দলের অধিকাংশ নেতাই মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ নেননি।”

তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান একে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন তাকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে কি বাংলাদেশের বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়নি?

তারেক রহমান বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধ সরকার আখ্যায়িত করে বলেন, পিতার মতো তিনিও বাংলাদেশের ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে আছেন।

তিনি বলেন, শেখ মুজিব অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

আবারো তিনি বলেন, শেখ মুজিব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসেছিলেন। একই সময়ে তিনি এ কে খন্দকার, তাজ উদ্দিন আহমদের লেখা, শিরিন শারমিনের লেখা, বদরুদ্দিন উমরের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন ।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে তার পিতা জিয়াউর রহমানকে আবারো বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি মেজর জিয়া বলছি-ঐ একটি শব্দই ছিলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক দুর্দমনীয় শক্তি, তাদের আত্মার কথা।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ। সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রহুল কবির রিজভী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান প্রমুখ। নতুনবার্তা, শীর্ষ নিউজ ও আরটিএনএন এখবর দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ