ঢাকা, বুধবার 5 August 2020, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

শ্রমিক লীগ নেতা হত্যার আসামি এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা!

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রমিক লীগ নেতা মোক্তার হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবুল কালাম জামিনে বের হয়ে এখন রাজধানীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত। হত্যা মামলা ছাড়াও আবুল কালামের নামে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা, মোটরসাইকেল ছিনতাইসহ একাধিক ঘটনায় মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। অথচ রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের দাবি, এই আবুল সেই আবুল নন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নেতা আবুল কালামই মোক্তার হত্যার আসামি, যাঁকে ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আর আবুল কালামের দাবি, মোক্তার হত্যা মামলা তাঁকে ফাঁসানো  হয়েছে। রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ এই মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। মোক্তার হত্যার সময় তিনি ঢাকার বাইরে ছিলেন।
২০১৩ সালের ২১ আগস্ট মালিবাগের আবুল হোটেলের সামনে দিনের বেলা রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় মোক্তার হোসেনকে। মোক্তারের স্বজনদের দাবি, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জন্যই আবুল, আকাশ ও রুবেল নামের তিনজন মোক্তারকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় নিহত মোক্তারের মেজো ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, আবুলসহ ১০ জনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করা হয়।
এই হত্যাকান্ডের পর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন আবুল কালাম। ওই সময় রমনা থানার ওসি জানিয়েছিলেন, আবুল কালামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবুল কালাম ছাড়াও আকাশ, মোমিন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ইব্রাহিম ও সবুজ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আকাশ ছাড়া আর সবাই জামিনে রয়েছেন।
এখন মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ডিবির এসআই শফিকুল ইসলাম। তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও প্রায় দেড় বছর আগের এই হত্যার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। শফিকুল ইসলাম বলেন, সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাই অভিযোগপত্র দেওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, আবুল কালামের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ইয়াবা, ফেনসিডিল, অস্ত্রসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই অস্ত্র, ইয়াবাসহ র‌্যাবের অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন আবুল কালাম। এ ঘটনার আগে নয়াটোলা মসজিদের পাশে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে মোক্তার হত্যার আগে ২০১৩ সালের ২০ মে পূর্ব নয়াটোলার একটি বাসা থেকে ৩৫০টি ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির চার লাখ ১০ হাজার টাকাসহ আবুলকে গ্রেপ্তার করে রমনা থানার পুলিশ।
মোক্তারের স্বজনদের ধারণা, মাদক কেনাবেচায় জড়িত থাকায় সে সময় আবুলকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন মোক্তার হোসেন। এই ক্ষোভ থেকেই মোক্তারকে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৩ সালে ৪ মে মালিবাগে আবুল হোটেলের সামনে বদরুল আলম নামের এক চিকিৎসকের ছেলের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের প্রধান আসামিও আবুল কালাম।
মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মামলায় আবুল খালাস পেয়েছেন বলে জানান বাদী বদরুল আলম। তিনি বলেন, ‘আবুল খালাস পেলেও আমি এখনো মোটরসাইকেলের কোনো হাদিস পাইনি। পুলিশ বলেছে, মোটরসাইকেলটি আর পাওয়া যাবে না। তাই মামলা আর এগোয়নি।’
হত্যা-অস্ত্র-মাদক-ছিনতাই মামলার আসামিকে কেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ‘নির্বাচিত করার আগে আমরা মোক্তারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, আবুল কালাম নির্দোষ। ওকে ফাঁসানো  হয়েছে। তবে আমার ধারণা, এই আবুল হত্যা মামলার আসামি সেই আবুল নন।’
তবে মোক্তার হোসেনের দুই ভাই মো. হানিফ ও সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, আবুলকে নেতা নির্বাচনের আগে তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে স্বেচ্চাসেবক লীগের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা টাকার অভাবে মামলা চালাইতে পারতাছি না। তবে শত্রুর লগে আপস করমু না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ