বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানি লন্ডারিং ও বীমা খাতের অনিয়ম তদন্তে নামছে সংসদীয় কমিটি

সংসদ রিপোর্টার : সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এতো তৎপরতার পরও মানি লন্ডারিং কেন রোধ করা যাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে সংসদীয় সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন করে দেয়া এই সাব-কমিটি বীমা কোম্পানীগুলোর অনিয়মও খুঁজে বের করবে। কমিটির প্রভাবশালী সদস্য টিপু মুন্শিকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের সাব-কমিটিতে রয়েছেন মো. শওকত চৌধুরী ও ফরহাদ হোসেন।
জাতীয় সংসদে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান, টিপু মুন্শি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, মো. শওকত চৌধুরী এবং আখতার জাহান অংশ নেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে বীমা কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি বীমা খাতকে সব ধরনের নেতিবাচক ধারণা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দ্রুত ‘ক্লেইম সেটেলমেন্ট’ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়। এছাড়াও বীমা খাতে বিদ্যমান বীমা এজেন্টদের কমিশনের হার কমানোর সুপারিশ করে কমিটি। একইসঙ্গে মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও পরামর্শ দেয়া হয় বৈঠকে।
বৈঠক শেষে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইনস্যুরেন্স কোম্পানীগুলোতে চলে কমিশন বাণিজ্য। এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার, ইনস্যুরেন্স এজেন্টরা। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ গ্রাহক। এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই আমরা বলেছি ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম কমাতে হবে। এছাড়া কমিশন প্রথা তুলে দিতে হবে। মানিলন্ডারিং বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডায় কি পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে তার কোন হিসাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্স সেল। এ নিয়ে কমিটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বৈঠকে ব্যাংক সুদের হার আরো কমিয়ে আনার দাবি তুলেন কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য। তারা উচ্চ সুদের কারণে দেশের বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না বলে জানান। কমিটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিদ্যমান উচ্চ ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনারও সুপারিশ করে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, বর্তমানে ঋণ নিতে গেলেই ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এভাবে চলতে পারে না। ব্যাংকগুলো কি আলাদ্বীনের চেরাগ পেয়েছে নাকি প্রশ্ন সভাপতির। তিনি বলেন, একটি দুটি শাখা নিয়ে একটি ব্যাংক চালু করতে না করতেই ব্যাঙের ছাতার মতো শাখা গজিয়ে যায়। বছর শেষে দেখা যায় তাদের এতো কোটি অতো কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। এসব টাকা আসে কোথা থেকে।
তিনি বলেন, ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। এজন্য আগের বৈঠকে বলা হয়েছিল। কিন্তু কোন অগ্রগতি নেই। বিষয়টি দেখতে একটি সাব-কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে তাদের বলা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী না থাকায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন সভাপতি। তিনি বলেন, মন্ত্রী সময় দিয়ে বৈঠকে থাকেন না। এ ধরনের বৈঠকে তার থাকা জরুরি। কারণ মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা কমিটিতে করা হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়ে। জাতির কাছেও বিষয়টি গ্রহণযোগ্যতা থাকে।
বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোতে সঠিকভাবে অর্থায়ন নিশ্চিত করে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের জন্য বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংকগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করে কমিটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ