বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

স্বৈরশাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই

* বর্তমান সরকার ভোটচোর ও স্বৈরাচার  -আ স ম রব
* মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা -মেজর (অব.) হাফিজ
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় এক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ব্যক্তি-গোষ্ঠী ও স্বৈরশাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ যতবার বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ততবারই তারা জয়লাভ করেছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘তারুণ্যের চোখে ৭১ এবং আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা একথা বলেন। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ বিকল্প ধারার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ, ফরিদা আক্তার, ফেরদৌস আজিম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যৌথভাবে ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারপার্সন শামা ওবায়েদ ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সূচনা বক্তব্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুর রব বলেন, তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চায় না-এই অভিযোগ সত্য নয়। তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের ভুল ইতিহাস জানতে চায় না। তারা সঠিক ইতিহাস জানতে চায়। তারা ইতিহাসের পূর্বের ইতিহাস জানতে চায়। তিনি বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুধুমাত্র ৭১’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পূর্বে বহু ইতিহাস আছে যা আমাদের আজও অজানা।
বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার গোড়াতে গলদ আছে মন্তব্য করে রব বলেন, মুষ্টিমেয় কিছুসংখ্যক লোক ছাড়া সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করেছে। যুদ্ধের সময় যে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানে মওলানা ভাসানীসহ অনেককেই উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর একটি মাত্র রাজনৈতিক দলকে দিয়ে সরকার গঠন করা হয়। আর সবার অবদানকে করা হয় অস্বীকার। মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ করার জন্য সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি যুদ্ধ করেনি।
বর্তমান সরকারকে ভোটচোর ও স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে সামরিক শাসনের মধ্যে থেকেও আমরা মিছিল করেছি, মিটিং করেছি, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি। সে সময় আমাদের ওপর গুলী চালানো হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আইন করে মিছিল-মিটিং বন্ধ করা হয়নি।
সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা কলেজ ও প্রাইম এশিয়া ইউভার্সিটির দেড় শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বক্তারা।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। গণতান্ত্রিক রাষ্টব্যবস্থার প্রবর্তন। কিন্তু স্বাধীনতার পর পরই একটি রাজনৈতিক দল তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করে। এখনো সেই রাজনৈতিক দলটিই আবার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছে। এর বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদেরকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলা হয়। এই জন্যই আমরা বলেছি স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে এখন রাজনৈতিক বাণিজ্য হচ্ছে।
 প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী খায়রুল বাসারের এক প্রশ্নের জবাবে মাহী বি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না আসায় একজন মেজর হয়েও জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন-এ অবদানও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
তরুণ প্রজন্ম মাঠে না নামার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহী চৌধুরী বলেন, ১৯৫২ সালে তরুণরা মাঠে নেমেছে মাতৃভাষার জন্য, ১৯৭১ সালে মাঠে নেমেছে স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু আজকের তরুণরা কেন মাঠে নামবে সেটি পরিষ্কার না। কোনো লক্ষ্য ছাড়া মাঠে নেমে খামোখা রক্ত দিলে জাতি রক্তশূন্য হয়ে পড়বে। তাই আগে আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা চাই কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ