বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে -প্রধানমন্ত্রী

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে অধিকতর আধুনিকায়নের মাধ্যমে সুসজ্জিত, শক্তিশালী ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত করতে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের মধ্যে বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নে তার সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে। তিনি গতকাল বুধবার কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে সদ্য ক্রয়কৃত কে-৮ ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্তকরণ অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন। শেখ হাসিনা তার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নতুন এয়ারক্রাফটের অন্তর্ভুক্তি বিমান বাহিনী সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করবে এবং একই সঙ্গে এই বাহিনীকে নিরাপদ ও গতিশীল করবে। নতুন প্রজন্মে কারিগরি যন্ত্রপাতি ও উন্নত ব্যবস্থাপনা বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
তিনি বলেন, অতি শিগগিরই বিমান বাহিনী অত্যাধুনিক এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার, পিটি-৬ এয়ারক্রাফট, এলইটি-৪১০ এয়ারক্রাফট, এডব্লিউ-১৩৯ হেলিকপ্টার এবং ওয়াইএকে-১৩০ এয়ারক্রাফট পাবে। প্রধানমন্ত্রী এই অন্তর্ভুক্তিকরণ আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারেড কমান্ডার উইং কমান্ডার শরীফ মোস্তফার কাছে হস্তান্তর করেন। এ উপলক্ষে এক চৌকস কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচাকাওয়াজ পরিদর্শন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজের পর তিনি নতুন অভিষিক্ত কে-৮ ডব্লিউ এয়ারক্রাফটের বর্ণাঢ্য উড্ডয়ন প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছলে বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মো. ইনামুল বারী ও এ ঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার কমোডর এম ওবায়দুর রহমান তাকে অভ্যর্থনা জানান। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবর্গ, রাষ্ট্রদূতগণ, নৌবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কে-৮ ডব্লিউ হচ্ছে বুনিয়াদী ও অগ্রসরমান জেড প্রশিক্ষণের জন্য চীনের তৈরি একটি প্রশিক্ষণ বিমান। এটি বিমানটি হচ্ছে পূর্ববর্তী সংস্করণের চেয়ে আরো দক্ষ ও উন্নত। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক উড্ডয়ন সরঞ্জাম।
প্রধানমন্ত্রী দেশের আকাশ সীমা রক্ষায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দেশের সাম্প্রতিক সমুদ্র বিজয় এবং সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় বিমান বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই উড্ডয়ন ভাতা বৃদ্ধি এবং জীবন বীমা নীতি সময়োপযোগী করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা জঙ্গি বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও যত্নবান হতে বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি পেশার লোকের জন্য দক্ষতা ও সততার কোন বিকল্প নেই। প্রত্যেককেই সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমিক হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ