বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এনবিআরের অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার হবে

# আইন করার সময় ব্যবসায়ীদের কথা রাখা হয় না -এফবিসিসিআই সভাপতি
স্টাফ রিপোর্টার : ভ্যাট এবং সম্পূরক কর আইন করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সুপারিশ রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এফবিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তুলে বলেন, ১৯৯১ সালে আইন করার সময়েও ব্যবসায়ীদের কথা শুনেনি সরকার। এবারও ব্যবসায়ীরা যে সুপারিশ করেছে তা আইনে রাখা হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়ীরাই কর দিচ্ছে। তা না হলে আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন হয় কিভাবে? ট্যাক্স বাড়ানো হবে। কিন্তু তা যেন ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচার করে না হয়। ভ্যাট আইন নিয়ে গতকাল বুধবার ৭ নম্বর মিটিং হয়েছে। যেসব আইন বানানো হয়  তা দেখা যায় ব্যবসায়ীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। মিটিংয়ের সময় দেখা যায় আমাদের কথাগুলো শুনে কিন্তু নেয়ার সময় নেয়া হয় না। ভ্যাট সরকার আমাদের কাছ থেকে নেবে। কিন্তু ভাল আচরণ করে নিক। নতুন আইনটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি এবং অস্বাভাবিক ধারা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কাজী আকরাম।
উল্লেখ্য, ‘ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স এ- সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি অ্যাক্ট ২০১২’ নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়। সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। আলোচনায় অংশ নেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, ব্যবসায়ী এম আই সিদ্দিকী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংগঠন এসএমইর সভাপতি আলী জামান, ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ ড. জাহিদ। গবেষণা প্রবন্ধ তুলে ধরেন ড. তৌফিকুল ইসলাম।
প্রবন্ধে বলা হয়, ৯১ সালে যে আইন করা হয় তা মূলত জনবান্ধব নয়। তাই এর আধুনিকায়ন দরকার। নতুন আইনে আয়করের ক্ষেত্র বেড়েছে। এটি মূলত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নযোগ্য। তবে এই আইনে এনবিআরকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা অপব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভ্যাট প্রক্রিয়া জটিল। তাদের জন্য এই আইন উপযুক্ত নয়। আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় গবেষণায়।
মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই ভ্যাটের হার ১৫ ভাগের কম। কর বেশি করা হলে এর দুটি প্রভাব পড়ে। এর একটি পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। কারণ এদেশে গরিবের উপার্জন কম। অন্যটি মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। তিনি মত দেন, করের রেট কম হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। মূল্যস্ফীতি কমবে। তাই রেট কমানোর সুপারিশ করেন তিনি। এছাড়া এনবিআরের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসা বান্ধব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন ব্যবসায় আছেন যে তার ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত একাউন্ট এক। এই ব্যক্তির একাউন্ট বন্ধ করে দিলে তার পরিবার উপবাস থাকবে। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, আইন করার আগে একট গবেষণার দরকার। আমরা আইন করি গবেষণা আগে। এ জন্য পরে গিয়ে বিপত্তি বাধে।
মন্ত্রী বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেট কমানো নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। সবার সঙ্গে আরো আলোচনা করে সেটি বাস্তবায়নের কথা বলেন মন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ