মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অলৌকিক হেলেন কেলার

অক্ষমদের সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন তিনি। অন্ধ-বধির হয়েও কিভাবে মানুষ তার দেখা ও বোঝার ক্ষমতা দিয়ে আকাশ স্পর্শ করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হেলেন কেলার।

হেলেন কেলারের বয়স তখন ২ বছরেরও কম। জ্বরে পড়লেন তিনি। হঠাৎ করেই এ জ্বরে আক্রান্ত হন। একেবারে অচৈতন্য অবস্থা। যেমন করে এসেছিল জ্বর, তেমনি হঠাৎ করেই জ্বর ছেড়ে যায় তার। কিন্তু রেখে যায় তার চিহ্ন। যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয় তাকে। প্রথমে অন্ধ হয়ে যান তিনি। এর কিছুদিন পরে বধির। কিন্তু অন্ধ হয়েও প্রলয় বন্ধ থাকেনি তার। নিজেকে বন্দী করে রাখেননি অক্ষম জীবনের বেড়াজালে। নিয়ত পরিশ্রম করেছেন। করেছেন যুগান্তকারী এক আবিষ্কার। ব্রেইল পদ্ধতি। যার সাহায্যে পৃথিবীতে কোটি কোটি দৃষ্টিহীন মানুষ অধ্যয়ন করতে পারছে।

হেলেন কেলারই প্রথম দেখতে পান শব্দের সাথে চিন্তা সম্পর্ক। হেলেন কেলারের এই আবিষ্কারের ঊনিশ দশকের সেরা আবিষ্কার বলা চলে। হেলেনের প্রবল একাগ্রতা ও মানসিক স্থিরতার জন্যই সম্ভব হয়েছিল এটি। তবে এতে আর একজনের অবদানও ছিল। তিনি হেলেনের শিক্ষয়িত্রী। অ্যানা সুলিভান। যিনি হেলেনকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়েছেন। সব কাজে। সুলিভান মারা যান ১৯৩৬ সালে। তারপরও ৩২ বছর বেঁচে ছিলেন কেলার। এই সময়ে তিনি প্রমাণ করে ছাড়লেন কিভাবে একজন অন্ধ হয়ে উঠতে পারে আত্মনির্ভরশীল। অন্ধরাও মানুষ। তাদেরও একটা স্বাভাবিক জীবন আছে। অন্ধ হলেও তারা দয়ার পাত্র নয়। কারো যেন হীনমন্যতা বোধ না থাকে তার প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মের জন্য। তার ঘোষণা ছিল, একজন দৃষ্টিমান মানুষের মতো পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ উপভোগ করতে চাই আমরা।

প্রচ- রাজনীতি সচেতন ছিলেন তিনি। নারীদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সমান সোচ্চার। লিঙ্গগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান সবাইকে। তিনি এক জায়গায় লিখেছিলেন, কেন যে ঈশ্বর মেয়েগুলোকে এত বোকা করে পাঠাল? তাদের যেন সব সময় একটাই চিন্তা কিভাবে পুরুষদের ভালো সঙ্গী হওয়া যায়? জে এডজার হুভারের ওপর এফবিআই থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল শতাব্দীর সেরা মানুষ বাছাইয়ের। তার পছন্দের তালিকায় ছিল টমাস এডিসন, চার্লি চ্যাপলিন, লেনিন এবং হেলেন কেলারের নাম।

এভাবে অন্ধ ও বধির হয়ে তার উপলব্ধি করার ক্ষমতা অনেক স্বাভাবিক মানুষকে হার মানিয়েছিল।

জীবন বৃত্তান্ত
জন্ম: ২৭ জুন, ১৮৮০। এলার তুসকাম্বিয়ায়।
১৮৮২: তার বয়স তখন ১৯ মাস। ভীষণ জ্বরে পড়েন। এরপর অন্ধ ও বধির হয়ে যান।
১৮৮৭: অ্যানাসুলিভান হেলেন কেলারের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন।
১৯০৩: ‘দি স্টোরি অফ মাই লাইফ’ প্রকাশিত হয়।
১৯১৯: সুলিভানকে সঙ্গী করে তার ৪ বছরের ব্রেইল পদ্ধতি আবিষ্কারের কার্যক্রম শুরু।
১৯৩৬: সুলিভানের মৃত্যু।
১৯৫৯: ‘দি মিরাক্যাল ওয়ার্কার’ নামে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শুরু। পরে সেটি মঞ্চ ও সিনেমাতেও রূপান্তরিত করা হয়।
মৃত্যু: ১ জুন, ১৯৬৮। ওয়েস্ট পোর্ট, কন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ