শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা থেকে ভারতীয় ভিসার অনলাইন সিরিয়াল মিলছে না

খুলনা অফিস : খুলনা থেকে ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদনের সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না। দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই ওয়েবসাইটের সিরিয়ালের অংশটি বন্ধ থাকছে। গত দুই মাস ধরে চলছে এই অবস্থা। গত ১৫/২০ দিন ধরে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে আগ্রহী রোগী, তাদের স্বজন ও ব্যবসায়ীরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভিসা ফরমের ওয়েব সাইটটি হ্যাক করে স্লো করে রাখা হয়েছে। এজন্য ভিসা ফরম পূরণ করে হোমপেইজে ‘ডেট অ্যান্ড টাইম অ্যালটমেন্ট টু অ্যাপলিকেন্ট’ এ গেলে ‘নো অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর অ্যাভেয়লএবল’ লেখা আসছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১০ মিনিটের জন্য সাইটটি খোলা হয় কিন্তু এত অল্প সময়ে অসংখ্য লোকের আবেদন পাঠানো যায় না। তারা অভিযোগ করেন, গুটি কয়েক ব্যক্তি মোটা অংকের টাকা নিয়ে সিরিয়াল ম্যানেজ করে দিচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের সিরিয়াল মিলছে না। এছাড়া নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহত্তর খুলনা থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যান। আগে ঢাকার গুলশান এলাকার  স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শাখা অফিস, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ভারতীয় ভিসা অফিস থেকে ভারতীয় ভিসা দেয়া হতো। খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষকে ভারতীয় ভিসার জন্য ছুটতে হতো ঢাকায়। ২০১১ সালের ২৯ মে খুলনায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শাখা এবং ভিসা অ্যাপ্লিকেশন রিসিভিং সেন্টার চালু হয়। অনলাইনে ভিসা ফরম পূরণে সহযোগিতা করতে স্টেট ব্যাংকের আশপাশে গড়ে ওঠে একাধিক এজেন্সি। এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এতে স্বস্তি ফিরে আসে ভারতে ভ্রমণকারীদের মাঝে। কিন্তু এই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। গত মে মাসের পর থেকেই ভিসার সিরিয়াল কমতে থাকে। বর্তমানে যা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।
অনলাইনে ভিসা আবেদন পূরণ এজেন্সি সন্ধ্যা ট্যুরস এর স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ বাবু জানান, এত দিন বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীরা অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে তাদের আবেদনপত্র জমা দিলে ভিসা পেত। কিন্তু গত দুই মাস ধরে অনলাইন থেকে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট’ পাওয়া যাচ্ছে না। দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় সাইটটি বন্ধ থাকছে। মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছে না। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ভিসার ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে রাখা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। বিটিআরসির উচিত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া।
নগরীর দৌলতপুর এলাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মন্ডল জানান, তার অসুস্থ স্ত্রীকে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশী চিকিৎসকরা। ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসকের অ্যাপয়েনমেন্ট নেয়া হয়েছে। কিন্তু গত ২০ দিন ভিসা এজেন্সিগুলো ঘুরে তারিখ পাচ্ছেন না তিনি। একই সমস্যায় পড়েছেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল। তার গুরুতর অসুস্থ ছেলেকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য ভিসা প্রয়োজন। কিন্তু ৩ সপ্তাহ ঘুরে তারিখ পাননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংকটের মধ্যেও কিছু কিছু ব্যক্তি মোটা অংকের টাকা দিয়ে সিরিয়াল জোগাড় করে দিচ্ছেন। যেখানে অন্য কেউ সিরিয়াল পাচ্ছে না, সেখানে গুটি কয়েক মানুষ কিভাবে পাচ্ছে তারও কোনো জবাব মিলছে না। ওয়েব সাইটটি হ্যাক করে স্লো করে দেয়ার অভিযোগ থাকলেও এ ব্যাপারে বিটিআরসির কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এ ব্যাপারে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, খুলনার হেড অব ব্রাঞ্চ মোঃ ইদ্রিস আলী খান বলেন, ভারতীয় ভিসা প্রদান এবং ভিসার জন্য সিরিয়াল-পুরো বিষয়টি দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওয়েব সাইট হ্যাকের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, শুধু খুলনা নয় সারা দেশেই সিরিয়াল কম দেওয়া হচ্ছে। এই  সুযোগে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি আটছে দালালরা।
এদিকে ভিসার সিরিয়াল না পাওয়ার সাথে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভারতে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। একাধিক ভ্রমণ প্রত্যাশী জানান, আগে ভারতে প্রবেশের সময় বন্দরে ৩০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে হতো। এখন সেটা ৫০০ টাকা হয়েছে। ভিসা অফিসে আবেদন জমা দেয়ার সময় আগে (ঢাকায় থাকাকালীন) ২০০ টাকা ফি দিতে হত। এখন সেটা ৬০০ টাকা করা হয়েছে। সব থেকে দুর্ভোগের বিষয়টি হচ্ছে ভিসার ফি এর সাথে ব্যাংক  স্টেটমেন্ট, প্রাইভেট সার্ভিসের কাগজ, নাগরিক সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজের মূল কপি জমা দিতে হয়। ভিসা না পেলে টাকাসহ কোনো কাগজপত্রই ভেরত দেয়া হয় না। যারা পুনরায় আবেদন করেন তাদের আবারও কষ্ট করে এসব কাগজ জোগাড় করতে হয়। এত কাগজের মূল কপি জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন আবেদনকারীরা। এছাড়া ভিসা অফিস কেন্দ্রিক দালালদের তৎপরতা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এসব দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকের টাকা, পাসপোর্টসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়। ভিসা সিরিয়াল চালুর সাথে এসব সমস্যারও সমাধান দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান : খুলনায় ভাসমান বাজার উচ্ছেদ করে রেল লাইনের দুই পাশে বেষ্টনী দেয়া হবে। অবৈধ বাজার উচ্ছেদের পর তা যেন পুনরায় বসতে না পারে, সেজন্য রেল লাইনের দুই পাশে এ বেষ্টনী তৈরি করা হবে। খুলনা রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, লিখিত নির্দেশনা পেলেই তারা এ কাজ শুরু করবেন। সূত্রে প্রকাশ, অবৈধ বাজার উচ্ছেদের পর তা যেন পুনরায় বসতে না পারে, সেজন্য রেল লাইনের দুই পাশে বেষ্টনী দেওয়ার সুপারিশ এসেছে। ঢাকায় রেল লাইনে বসা অবৈধ বাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে চারজন নিহত হওয়ার পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলার মধ্যে রবিবার রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার পরদিন থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান রবিবারও অব্যাহত ছিলো। এর মধ্যেই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় ওঠে, এ সময় রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকও ছিলেন। বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় জালের বেড়া দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানেও এই কার্যক্রম হাতে নিতে বলেছে কমিটি। “রেলমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালু থাকবে। কিন্তু দেখা যায়, উচ্ছেদের পরপরই আবার বাজার বসছে। এজন্যই কমিটি বেড়া নির্মাণের সুপারিশ করেছে।” রেলের স্টেট শাখার আমিন সরদার মিজানুর জানান, শিগগিরই খুলনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বর্তমান উত্তরবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানের অভিযান শেষ হলে খুলনায়ও উচ্ছেদ চালানো হবে। রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) খুলনা বদিরুজ্জামান জানান, অচিরেই খুলনায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। উচ্ছেদের পরবর্তী কাজ হবে বেষ্টনী দেয়া। কিন্তু আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা আসলেই কাজ শুরু করা হবে। খুলনা রেল সূত্রে জানা যায়, খুলনা-যশোর রেল লাইনের বিশেষ করে দুটি স্থান দৌলতপুরের মহসিন মোড় থেকে খুলনা অভিমুখে ৩০০ ফুট পর্যন্ত এবং ফুলতলার স্টার মিলের সামনে ভাসমান বাজার বসে। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এসব বাজার বসিয়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। বাজারে অসংখ্য ক্রেতারও উপস্থিতি থাকে। কিন্তু কোন অনুমতি ছাড়াই এসব বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ফুলবাড়িগেট, খালিশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের দুই পাশজুড়ে অবৈধ আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। ফলে যেকোনো সময় এসব এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ