সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

পিরোজপুরের মামলায় মফিজ উদ্দিনকে নির্যাতনের ঘটনার উল্লেখ নেই

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। যুক্তিতর্কের শুনানিতে আলোচিত ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন চলছে। ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার অভিযোগ বিষয়ে আল্লামা সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার অভিযোগ বিষয়ে প্রসিকিউশনের ছয় নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য খ-ন করে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আল্লামা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট এসএম শাহজাহান।

গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি হয়। বেঞ্চের অপর চার বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

শুনানির সময় আল্লামা সাঈদীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। সরবকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

এডভোকেট এস এম শাহাজাহন শুনানির শুরুতে বলেন, ছয় নম্বর সাক্ষী মানিক পসারী বলেছেন, তাদের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা তিনি বাড়ির পূর্ব পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে দেখেছেন। কিন্তু প্রসিকিউশনের ১০ নম্বর সাক্ষী বলেছেন, মানিক পসারীর বাড়িতে আগুন দেয়ার আগেই বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, মানিক পসারী বলেছেন বাড়ির পাশে জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে তিনি তাদের বাড়িতে আর্মি এবং শান্তি কমিটির লোকজন কর্তৃক লুটপাট চালানো, আগুন দেয়া এবং এরপর তাদের বাড়ির কাজের লোক ইব্রাহীম কুট্টি ও মফিজউদ্দিনকে ধরে এক দড়িতে বেঁধে পারেরহাট বাজারে নিয়ে যেতে দেখেছেন। জীবন বাঁচাতে বাড়ির পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নিতে পারে যে কেউ। কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে লুকিয়ে থেকে বাড়িতে ঘটে যাওয়া এতসব ঘটনা কারো পক্ষে দেখা সম্ভব কি-না তা আদালত বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, মানিক পসারী এ মামলায় সাক্ষী হবার বিনিময়ে একটি খামার একটি বাড়িসহ নানা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছে যা জেরায় বের হয়ে এসেছে।

এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা ঘটনার সাথে মফিজ উদ্দিন পসারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনাও জড়িত। ইব্রাহীম কুট্টি এবং মফিজ উদ্দিনকে মানিক পসারীর বাড়ি থেকে একই দড়িতে বেঁধে পারেরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয় মর্মে মানিক পসারীসহ প্রসিকিউশনের অন্যান্য  সাক্ষীরা বলেছেন। তাদের দাবি পারেরহাট বাজারে নিয়ে  ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা করা হয় এবং মফিজ উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয় আর্মি ক্যাম্পে। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

মানিক পসারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলায় তাদের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা বিষয়ে একটি মামলা করেন। সে মামলার এজাহারে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়া এবং লুটপাটের বিবরণের সাথে ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার কথাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পিরোজপুরের ওই মফিজ উদ্দিনকে নির্যাতনের বিষয়ে একটি কথাও উল্লেখ নেই। অথচ ইব্রাহীম কুট্টি এবং মফিজ তাদের বাড়িতে কাজ করত এবং তাদেরকে একই সাথে একই দড়িতে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মর্মে ট্রাইব্যুনালে দাবির করা হয়েছে। কিন্তু একই ঘটনায় ইব্রাহীম ও মফিজ দুজন ভুক্তভোগী হলেও মফিজের ঘটনা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত পিরোজপুরের মামলায়। এডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, অপরদিকে  মানিক পসারী ট্রাইব্যুনালে জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে জানান ইব্রাহীম কুট্টির পিতার নাম গফুর শেখ। অপর দিকে পিরোজপুরে তিনি যে মামলা করেছেন তাতে তিনি ইব্রহীম কুট্টির পিতার নাম লিখেছেন সইজুদ্দিন হালদার।

তাছাড়া ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানিক পসারীর অভিযোগে উল্লেখ আছে তিনি জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে থেকে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা দেখেছেন কিন্তু পিরোজপুরে তিনি ২০০৯ সালে যে মামলা করেন তাতে জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে ঘটনা দেখার কথা উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু পালিয়ে যাবার কথা উল্লেখ আছে।

এসময় আদালতের একজন বিচারপতি বলেন, মানিক পসারী কেন এতদিন পর পিরোজপুরে এ ঘটনায় মামলা করল সে বিষয়ে একটি কথাও উল্লেখ নেই।

এরপর আট নম্বর অভিযোগ তথা ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে প্রসিকিউশনের সাত নম্বর সাক্ষী মফিজ উদ্দিনের সাক্ষ্য বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরুর কিছুক্ষণ পর মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ