শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেমকে আমলে নেয়া হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিশ্বে কয়লার ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞারা অভিযোগ করেছেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেমকে আমলে নেয়া হয়নি। তারা  বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তথ্যের চেয়ে ভুল তথ্যের প্রবাহ বেশি। সরকারি এই প্রকল্প চালুর পর কোনো অনিয়ম হলে পরিবেশ অধিদফতর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে কি না সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক সুলতান আহমেদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন প্রমুখ। সেমিনারে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে থিসিস উপস্থাপনা করেন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড-এর শিক্ষক ড. আঞ্জুমান ইসলাম কাঁকন এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি সদস্য কাজী আহমদ পারভেজ।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।

সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি না করেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই প্রকল্প কাগজে কলমে বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। এখন শুধু কার্যকর করা বাকি আছে।

তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হওয়ায় রামপালবাসী খুশি। রামপালবাসী দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, আমেরিকাতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে সবচেয়ে বেশি। তারা সব সুবিধা-অসুবিধা মেনে নিয়েই কাজ করছে। অনেক জনবহুল এলাকাতেও তাদের পাওয়ার প্লান্ট আছে। আমাদের দেশে আমাদের স্বার্থেই এই পাওয়ার প্লান্ট শুরু করতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেমকে আমলে নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন ।

আবু নাসের খান বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিকল্প নেই। আমরাও চাই দ্রুত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হোক। তবে সুন্দরবনের ক্ষতি যেন না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

পবা সভাপতির এই বক্তব্যের জবাবে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ অনুমোদন দেয়ার আগে ২৫ বার সংশোধন করা হয়েছে। আর কোনো ক্ষেত্রে এত বিশদ বিশ্লেষণ বা পরিবর্তন করার নজীর নেই। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তথ্যের চেয়ে ভুল তথ্যের প্রবাহ বেশি। সরকারি এই প্রকল্প চালুর পর কোনো অনিয়ম হলে পরিবেশ অধিদফতর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে কি না সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই সরকারের আমলে অন্তত ৫০ শতাংশ শক্তি আমরা কয়লা পাওয়ার প্লান্ট থেকে পেতে চাই। যে কোনো উন্নয়ন করতে গেলেই সমস্যা থাকে। এসব সমস্যা অতিক্রম করেই উন্নয়ন করতে হবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে যেসব সমস্যা আছে তা দূর করেই করা হবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত দিক নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সালেহ দাবি করেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। বাতাস কোনদিকে যাচ্ছে তা হিসাব করে উল্টোদিকে বা অনেক উপরে চিমনি করতে হবে। তাহলে তা সুন্দরবনের কোন ক্ষতি করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ