রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

মুসলিম উম্মাহর শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা

টঙ্গী থেকে মো : রেজাউল বারী বাবুল ও গাজী খলিলুর রহমান : দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের আশায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দুই হাত তুলে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অশ্রুসিক্ত নয়নে মুনাজাতের মধ্যদিয়ে ৪৯তম বিশ্ব ইজতিমার পরিসমাপ্তি হয়েছে। মুনাজাতে মুসল্লিরা নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কেঁদে বুক ভাসান। এ সময় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে লাখো লাখো মুসলমানদের কণ্ঠে আমিন আমিন, আল্লাহু আমিন ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠে। মুনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়।

গতকাল রোববার সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট থেকে ১০টা ১১ মিনিট পর্যন্ত ১৭ মিনিট স্থায়ী মুনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগ জামাতের মারকাজের শূরার সদস্য দিল্লীর মাওলানা যেবায়েরুল হাসান। এই মুনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুণাহ মাফের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়।

ইজতিমার ২য় পর্বে মুনাজাতে লাখো লাখো মুসল্লির সঙ্গে সংসদ সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ ও বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের কূটনৈতিকবৃন্দ শরিক হন। এ ছাড়া পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ দলমত শ্রেণীপেশা নির্বিশেষে সর্বস্থরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান মুনাজাতে অংশ নেন।

ইজতিমাস্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মুনাজাতের জন্য রোববার আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মুনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মুনাজাতে অংশ নিতে রোববার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছেন।

মুনাজাতের পূর্বে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিরা হেদায়ী ও সংক্ষিপ্ত বয়ানে বলেন, প্রত্যেক মুসলমানকে দিনের বেলায় মেহনত রাতের বেলায় ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। দুটির একটি করলে ফয়দা হবে না। মেহনত ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে মুসলমানের মৃত্যু পর্যন্ত দ্বীনের রাস্তায় অনড় থাকতে হবে। মুনাজাতের দিন গতকাল সূর্য উঠার শুরু থেকে উত্তরা বিমান বন্দর, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী কালীগঞ্জ সড়কে আশুলিয়া-সাভার সড়কে ও ঢাকা-ময়মসসিংহ সড়ক পথে ধনী দরিদ্র যুবক বৃদ্ধ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা ধাবিত হয় ইজতিমা ময়দানে।

এদিকে ইজতিমাস্থলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অগণিত মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক, আশুলিয়া-সাভার সড়ক এবং উত্তরা মডেল টাউনসহ আশেপাশের এলাকা থেকে অগণিত মুসুল্লি মুনাজাতে অংশ নেন। গত শনিবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ও টঙ্গী আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ থাকায় ওই সড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে হেদায়েতি বয়ান করেন দিল্লীর মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। বয়ানে তিনি বলেন, আল্ল¬াহর গজবের বড় স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। তিনি আল¬াহর রাস্তায় তাবলীগে দাওয়াতি কাজে পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পায়ে হেঁটে বেশি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া সম্ভব হবে। এতে পায়ে যে ধূলাবালি লাগবে তা জাহান্নামের আগুনকে ঠা-া করে দেয়।

হেদায়েতি বয়ানে আরো বলা হয়, যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে এবং মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াব অর্জন করবে। মুনাজাতের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বয়ানে মাওলানা যোবায়েরুল হাসান বলেন, নামাযের আগে আামদের দিলে একিন বা ঈমান পয়দা করতে হবে। তা না হলে নামাযের ফজিলত পাওয়া যাবে না।

আখেরী মুনাজাতে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ শরিক হন। এ ছাড়া পদস্থ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তাসহ দল-মত, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান আখেরী মুনাজাতে অংশ নেন।

মুনাজাতে বিভ্রান্তি : গতকাল রোববার বিশ্ব ইজতিমার শেষ মুনাজাতের সময় অনেক এগিয়ে আনার কারণে অনেক মুসল্লি মুনাজাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। অন্যান্য সময় ইজতিমার মুনাজাত দুপুরের দিকে হলেও এ পর্বের মুনাজাত শুরু হয় সকাল ১০টারও আগে। যার ফলে অনেক মুসল্লি ইজতিমা ময়দানের কাছে এসে না পৌঁছতেই মুনাজাত শেষ হয়ে যায়। মুনাজাত শুরু হলেও অনেককে হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে। প্রায় ২-৩ মিনিট পর টের পেয়ে যে যে অবস্থায় ছিলো সেখান থেকেই মুনাজাতে শরিক হন। এ নিয়ে অগণিত মুসল্লি মুনাজাতের বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক মুসল্লি রাস্তায় আসার পথে খবর পান যে মুনাজাত শেষ হয়ে গেছে। মুনাজাতের সময় এগিয়ে আনার খবর অনেক মুসল্লি না জানার কারণে তারা মুনাজাতে অংশ নিতে পারেননি।

ইজতিমায় বিদেশি মুসল্লি : এ বারের বিশ্ব ইজতিমায় বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ অংশ নেয় বলে আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ অংশগ্রহণকারী দেশের তাবলীগ জামাতের প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি মেহমান এবারের ইজতিমায় অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক বিদেশি মেহমান আগমন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলীগের কাজে বের হওয়ার জন্য এবার ইজতিমা স্থলে দ্বিতীয় পর্বে প্রায় ৫ হাজার জামাত তৈরি হয়েছে বলে ইজতিমার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এসব জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে তাবলীগ সূত্র ।

বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতিমা ময়দানে বিদেশী মেহমানদের জন্য মোট ৩টি বিদেশী নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরো এক মুসল্লি¬র মৃত্যু : গত শনিবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতিমায় আসা মুসল্লি¬দের মধ্যে আরো এক জন মারা গেছেন। তার নাম আঃ গনি (৬৫), পিতা আনু বেপারী তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার দাড়িয়াল গ্রামে। এ নিয়ে গত দুই পর্বের বিশ্ব ইজতিমায় মোট ১৭ জন মুসল্লি ইজতিমা ময়দানে ইন্তিকাল করেছেন।

১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানব বলয় : ৪৯তম বিশ্ব ইজতিমা দ্বিতীয় দফায় তিন দিনব্যাপী এই জমায়েতের শেষ দিন গতকাল রোববার ভোর থেকেই মুনাজাতে শামিল হতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জীপ, কার, রিকশা-ভ্যান এবং নৌকাসহ নানা ধরনের যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে ইজতিমা ময়দানে পৌঁছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এছাড়া ভোর থেকেই ইজতিমা ময়দানের দক্ষিণে খিলক্ষেত, বিশ্বরোড থেকে এবং উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে পূবাইল, পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত রিকশাসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ইজতিমা অভিমুখে ছুটতে থাকে মুসল্লিদের কাফেলা। এতে তুরাগের তীরকে কেন্দ্র করে কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল মানব বলয় সৃষ্টি হয়।

ইজতিমা আয়োজক কমিটির বক্তব্য : বিশ্ব তাবলীগ জামাতের মুরুব্বীরা জানান, সারা বিশ্বে তাবলীগের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতিমায় শরীক হওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসলিমদের যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টেলিভিশন-মুঠোফোন ও ওয়্যারলেস সেটে মুনাজাত : ইজতিমা মাঠে না এসেও মুনাজাতের সময় হাত তুলেছেন অসংখ্য মানুষ। গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মাঠ, ভোগড়া মধ্যপাড়া স্কুল মাঠ, নলজানি ওয়্যারলেস মাঠ, ভুরুলিয়া ওয়াপদা মাঠ, কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর, আন্দারমানিক, সফিপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়্যালেস সেটে, মুঠোফোনের ও মাধ্যমে মুনাজাত প্রচার করা হয়। এসব স্থানে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

২০১৫ সালের বিশ্ব ইজতিমা : গত বুধবার বিশ্বইজতিমার মুরুব্বীরা আগামী বিশ্ব ইজতিমার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। সে অনুযায়ী আগামী ৯ জানুয়ারি শুরু হবে তিন দিনের প্রথম দফা। আবার চারদিন বিরতি দিয়ে তিন দিনের দ্বিতীয় দফা শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি। প্রথম দফার মুনাজাত হবে ১১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফার মুনাজাত হবে ১৮ জানুয়ারি। বিশ্ব ইজতিমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তাবলিগী প্রচার কাজের সুবিধার্থে ওই তারিখ এ বছরের চেয়ে এগিয়ে আনা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা : গত তিন দিনে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ইজতিমাস্থলের আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশুদ্ধ খাদ্যদ্রব্য আইন, সিটি কর্পোরেশন আইন ও দ-বিধিতে ৩০টি মামলা দায়ের করেছেন। জরিমানা ও আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া দুই পর্বের ইজতিমায় মোট ৫৭টি মামলা এবং ২ লাখ ৬৩ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা ও তিন পকেটমারকে ১০ দিন করে কারাদ- প্রদান করেছেন।

টঙ্গী হাসপাতালে চিকিৎসা : টঙ্গী হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে গত তিন দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ১৬ হাজার ৪১৬ জন মুসল্লি চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত ৪৩ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে এবং ৮৬ জনকে টঙ্গী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো: শাহ আলম শরীফ। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে আরো কয়েক হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মুসল্লি¬দের দুর্ভোগ : ইজতিমা ময়দানের প্যান্ডেলের বাইরে পর্যাপ্ত মাইক সংযোজন ব্যবস্থা না নেয়ায় অনেক মুসল্লি¬ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্ব ইজতিমা মাঠে মহিলাদের কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা না থাকলেও মুনাজাতে শরিক হতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মহিলা টঙ্গীর আশপাশে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে মুনাজাতে অংশ নেয়। আবার অনেকে নদীর পাড়ে বা আশপাশে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নেন তারা। অজু, গোসল, খাওয়া-দাওয়াসহ ভোগান্তির শেষ ছিল না তাদের।

মুনাজাত শেষে যানজট ও জনজট : মুনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আশা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করে। আগে যাওয়ার জন্য মুসল্লি¬রা তাড়াহুড়া করতে শুরু করে। এতে টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জনজট ও যানজট।

ইজতিমায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প : এবারের বিশ্ব ইজতিমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে। এবার প্রায় ৫০টি স্বেচ্ছাসেবী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেছে।

দ্বিতীয় পর্বে ২ হাজার জামাত তৈরি : বিভিন্ন দেশে তাবলীগের কাজে বের হতে এবার ইজতিমা স্থলে দ্বিতীয় পর্বে প্রায় ২ হাজার জামাত তৈরি হয়েছে বলে ইজতিমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এসব জামাতে কেউ কেউ তিন চিল্লা, এমনকি আজীবন চিল্লার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। এ ছাড়া এক’শটির মতো বিদেশী জামাত তৈরি হয়েছে। প্রথম পর্বে ২ হাজার ৭শ’ দেশী জামাত ও ৭শ’ বিদেশী জামাত তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনে মধ্যে এসব জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে সূত্র জানায়।

র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল : ইজতিমা চলাকালে গত কয়েকদিন ধরে র‌্যাবের নদী পথে স্পীডবোর্ড ও আকাশ পথে হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত ছিল। এছাড়া এবার গাজীপুর জেলা পুলিশ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে কর্মকর্তাসহ ফোর্স এবং সারা দেশ থেকে র‌্যাব ইউনিটের কর্মকর্তাসহ ফোর্স ইজতিমাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১২ হাজার সদস্য নিয়োজিত ছিল।

পকেটমার আটক : টঙ্গী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, বিশ্ব ইজতিমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিদের ব্যাগ টানা, পকেটকাটাসহ বিভিন্ন অপরাধে রোববার পর্যন্ত ৪ দিনে ৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ