মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অভ্যুত্থানের তিন দিন আগে ইসরাইলকে জানান সিসি

সংগ্রাম ডেস্ক : মিসরের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার তিনদিন আগে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।

ইহুদিবাদী সামরিক বিশেষজ্ঞ রুনি ড্যানিয়েল ইসরাইলের ২ নম্বর চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিসি অভ্যুত্থানের তিনদিন আগে তেল আবিবকে জানিয়েছিলেন, তিনি মুহাম্মাদ মুরসিকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া, তিনি ইসরাইলকে বলেছিলেন, তারা যেন ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের কর্মতৎপরতা ওপর নজর রাখে। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গেলে হামাস যদি প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে তাকে দমন করার দায়িত্ব তিনি ছেড়ে দেন তেল আবিবের ওপর। ড্যানিয়েল বলেন, জেনারেল সিসি সামরিক অভ্যুত্থানের আগে হামাসকে ভয় পাচ্ছিলেন; কিন্তু তেল আবিব তাকে এ আশ্বাস দেয় যে, গাজার পুরো পরিস্থিতি ইসরাইলের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। ইহুদিবাদী সরকার হামাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বিনিময়ে মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্তের ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো ধ্বংস করে দেয়ার জন্য জেনারেল সিসি’র প্রতি আহ্বান জানায়। মিসরের সেনাপ্রধান তেল আবিবের সে আহ্বান বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

ইসরাইলের সমরবিদ রুনি ড্যানিয়েল জানান, জেনারেল সিসির পাশাপাশি মিসরের সেক্যুলার রাজনীতিবিদ ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ আল-বারাদিও তেল আবিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। তিনি সামরিক অভ্যুত্থানের আগে একবার এবং এরপর আরেকবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। ড্যানিয়েলের মতে, মিসরের সা¤প্রতিক অভ্যুত্থান হয়েছে সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং তাতে সহযোগিতা করার পুরস্কার হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মাদ আল-বারাদি। এ ছাড়া, নেতানিয়াহু আল-বারাদিকে এ আশ্বাস দিয়েছেন যে, অভ্যুত্থানের পর কায়রোর নতুন সরকারকে যাতে পাশ্চাত্য স্বীকৃতি দেয় সেজন্য তেল আবিব সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। উল্লেখ্য, মিসরে সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েকদিন আগে থেকে গাজার রাফাহ ক্রসিং পয়েন্টের ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস করা শুরু করে মিসরের সেনাবাহিনী।

তবে হামাস বলেছে, কায়রো অযথাই তাদের ভয় পাচ্ছে; কারণ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছে তাদের নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ