মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হিজবুল্লাহকে কালো তালিকাভুক্ত না করতে ই ইউ'র প্রতি লেবাননের আহ্বান

আল-জাজিরা: হিজবুল্লাহকে “লেবানিজ সমাজের একটি অপরিহার্য অংশ” উল্লেখ করে একে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত না করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লেবানন। যদিও সম্প্রতি দলটির প্রধান হাসান নসরুল্লাহ সিরিয়ায় সরকারের পক্ষে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এএফপি।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট ভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবানিজ সমাজের অপরিহার্য অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় স্থান না দেয়ার জন্য ইউরোপীয় কমিশন ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকারকে অবহিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে । বিবৃতিতে বস্তুগত ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া ত্বরিৎ কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহবান জানানো হয়। এদিকে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আগামীকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে কি হবে না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আগামীকালের নির্ধারিত বৈঠককে সামনে রেখে বলেন, এ ব্যাপারে কিছু অননুমোদন রয়েছে তবে আমরা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

ঐ কর্মকর্তা বলেন, এ ক্ষেত্রে গত বছর বুলগেরিয়ায় ইসরাঈলী পর্যটকদের উপর হামলায় হিজবুল্লাহর জড়িত থাকা ও সাইপ্রাসে তাদের কর্মকা-ের দিকগুলো বিবেচনায় আনা হয়েছে। লেবাননের বর্তমান সরকারে শিয়া মুসলিমদের বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাঈল উভয়েই বহু দিন ধরে হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ই ইউভুক্ত কিছু দেশের আপত্তি থাকার কারণে গত মাস পর্যন্ত তারা বিষয়টিকে স্পর্শকাতর ও বিভেদজনক হিসেবে বিবেচনা করছিলো ।

বৃটেন দলটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার পক্ষে মত দিলেও ফ্রান্স এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো। তবে ফ্রান্স জানিয়েছে যে, সিরিয়া সংঘাতে হিজবুল্লাহর অনুভূত ভূমিকার জন্যই ফ্রান্স এখন তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যবিয়াস সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু হিজবুল্লাহ এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে সুতরাং আমরা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার পক্ষে মত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

তবে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সকলের ঐকমত্য প্রয়োজন। কেননা এর আগে ই ইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক ও আয়ারল্যান্ড এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলো। এদিকে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গ ই ইউ'র এই সন্ত্রাসী তালিকার ব্যাপারে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে এবং ইউরোপীয় আদালতের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ