মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মিসরে মুরসি সমর্থকদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের হুমকি

সংগ্রাম ডেস্ক : মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরা। গত শুক্রবারও মিসরের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে লাখ লাখ মুরসি সমর্থক ও বিরোধীরা। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কম পক্ষে ৩ জন নিহত হয়।

কায়রো থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা রাবিয়া রাগে জানান, মানসুরার নীল ডেল্টা শহরে মুরসি সমর্থক এবং বিরোধীদের মধ্যকার সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩ জন নিহত ও অপর ৬ জন আহত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন মুরসি সমর্থকরা যদি তার উৎখাতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করে তাহলে সেখানে দমন অভিযান চালানো হতে পারে।

গত শুক্রবার কায়রোর রোব্বা আল আদাবিয়া মসজিদে মুরসিপন্থীরা বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে গত ৩ জুলাই মুরসিকে উৎখাতের পর থেকে অবস্থান নিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সমর্থকরা। সেখান থেকে ১০ হাজারের বেশি মুরসি সমর্থক অভিজাত একটি সেনা কম্পাউন্ডের দিকে যাত্রা আরম্ভ করলে সহিংসতা শুরু হয়। এ সময় মুরসি সমর্থকরা তার বড় বড় ছবি বহন করছিল। তবে তারা সশস্ত্র সৈন্য এবং সেনা যান দ্বারা অবরুদ্ধ ছিল।

এ সময় তারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি সম্বলিত বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছিল। এ সময় আকাশে যুদ্ধ বিমান ও সেনা হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছিল। নাসের সিটি থেকে নাদিম বাবা জানান, মুরসি সমর্থকদের মিছিল তাকে পিছনে ফেলে সামনে এড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, মিছিলের একটি অংশ ব্রাদারহুড সদস্যদের আবার কিছু অংশ অন্যদের। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের সংবাদদাতা বলেন, আমরা আল-আজহার মসজিদের কাছে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আওয়াজ পেয়েছি। সেখানে লোকেরা মুরসি সমর্থকদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

বিশাল মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ। মিছিলের সংগঠকদের আহ্বানও ছিল তাই। ব্রাদারহুডের ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান এ মাস আল-আরিয়ান আল-জাজিরাকে বলেন, এ প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুধুমাত্র তার দলের সদস্যদের নয় এটি দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ।

গত শুক্রবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট প্যালেসের দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সেনাবাহিনী মিছিল লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঐ রাস্তাটি আগে থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের পর মিছিলকারীরা সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখে। এছাড়া কায়রোর বিভিন্ন রাস্তায় ছোট ছোট বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা নিকোল জনস্টোন জানান। রমযান মাসে ইফতারের পর ঢলের মত রাস্তায় নেমে আসে মুরসিপন্থীরা।

তিনি বলেন, এ সময় আমরা রাস্তায় শক্তিশালী কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করিনি। তবে আকাশে সেনা হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখেছি। অপর দিকে সামরিক অভ্যুত্থানের পক্ষে কয়েক হাজার লোক জড়ো হলেও তাহরির স্কয়ারের কাছে তাদের প্রতিপক্ষের সমাবেশ ছিল বিশাল। মুরসিপন্থী জোট সমর্থকদের প্রতি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে গত শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। জোটের দাবি মিসরের প্রতিটি নর-নারী রক্তাক্ত সেনা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে। এর প্রতিবাদে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট মুরসিপন্থীরা নাসের সিটির মসজিদের অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

গত ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক লোক নিহত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ