মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফিলিস্তিনী দুর্ভোগ বাড়াতে ইসরাইলের সঙ্গী সাজলো এবার মিসরীয় সেনা

মিসরে কিছু ঘটলে তার দ্রুত প্রভাব পড়তে দেখা যায় গাজায়। গাজাগামী পথ মিসরীয় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা মিসরের ঘটনাবলীতে হামাসের জঙ্গীরাও এসে যোগ দিতে পারে অথবা গাজায় উপদ্রব সৃষ্টি করতে পারে। গাজা যাওয়ার রাস্তা ইসরাইল বন্ধ করে রেখেছে স্থায়ীভাবে। মিসরের ক্ষমতা বেদখল হওয়ার ও তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে গাজার বাসিন্দা ১৭ লাখ ফিলিস্তিনীকে।

মুরসিকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত করার দু’দিন পর ৫ জুলাই মিসরের সেনাবাহিনী রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। ফলে মিসরে অবস্থানকারী কয়েক হাজার ফিলিস্তিনী গাজায় তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে চিকিৎসা বা পড়াশোনার জন্য ফিলিস্তিনীদের গাজা থেকে অন্যত্র যাওয়ার পথ ও বন্ধ রয়েছে। তারা মিসরে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অনেকের কাছে টাকা পয়সাও নেই। গাজায় ফিরে আসতে গিয়ে কায়রোয় অনেকে আটকে রয়েছেন। যে দেশগুলো থেকে লোকগুলো এসে কায়রোর এয়ারপোর্টে আটকে গেছেন, মিসরের মিলিটারি ছেড়ে আসা বিভিন্ন দেশে তাদের আবার ফেরত পাঠাচ্ছেÑ লোকগুলোর নিজেদের খরচে। ইউসুফ আল-জামালকে ফেরত যেতে হয়েছে মালয়েশিয়ায়। নিউজিল্যান্ডে একটি কনফারেন্সে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার পথে মালয়েশিয়ায় স্বল্পকালীন একটি যাত্রাবিরতি করেছিল তার বিমানটি। সেখান থেকে তিনি আসেন কায়রোয়। মিলিটারি তাকে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ায়। ইউসুফের ভাগ্য ভালো মালয়েশিয়ার ফিলিস্তিনী সংগঠনটি তাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছে।

অন্য দিক দিয়ে তার ভাগ্য মন্দও বলতে হয় এইজন্য যে, পারিপারিক লোকজনের সঙ্গে পবিত্র রমযানের ক্রিয়া অনুষ্ঠান একত্রে তিনি পালন করতে পারড়লেন না। জেদ্দায় উপস্থিত হাজারের মতো পুণ্যার্থী ফিলিস্তিনী দেশে ফিরতে পারছেন না। মিসরীয় মিলিটারি বিভিন্ন দেশকে আহ্বান করেছে ঐ দেশগুলো সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনীদের অন্য কোথাও চলে যাওয়ার অনুমতি যেন না দেয়। তাদের গৃহীত ব্যবস্থায় দুঃখকষ্টের সম্মুখীন ফিলিস্তিনী পরিবারগুলোর রোষ ও ক্ষাভের মুখে মিসরীয় মিলিটারি অবশেষে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেয় গত ১০ জুলাই। তাও খুব স্বল্প মেয়াদের জন্য। বিদেশী পাসপোর্টধারী মাত্র ৪শ’ গাজাবাসী ফিলিস্তিনীকে চিকিৎসা বা পড়াশোনার প্রয়োজনে রাফাহ ক্রসিং পার হয়ে মিসরে আসার অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে আটকে পড়া মাত্র ১২শ’ ফিলিস্তিনীকে দেশে ফেলার সুযোগ দেয়া হয়। বিমানযোগে ফিলিস্তিনীদের মিসরযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আজো বলবৎ রাখা হয়েছে।

ওদিকে গাজায় জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে দুর্বিষহ মাত্রায়। ৩০ জুনের আগেই মিসর-গাজা সুড়ঙ্গপথটি ভেঙে ফেলার গতি মিসর বাড়িয়ে দিয়েছিল। ঐ সুড়ঙ্গপথ দিয়েই প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রী গাজায় এসে পৌঁছাতো। সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার কারণে গাজায় এসব সামগ্রীর দাম হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। ইসরাইল থেকেও গাজা জ্বালানি পেতে পারে। কিন্তু ইসরাইলী জ্বালানির দাম পড়ে অত্যাধিক অর্থাৎ তাদের সাধ্যের বাইরে। গাজায় অধিকাংশ গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে গাজায় ১৯০টি তেলকূপ বন্ধ হয়ে গেছেÑ যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সম্প্রতি জানান মাত্র ২০ শতাংশ গ্যাস তাদের হাতে মজুত রয়েছে। রমযান মাসে ইবাদত, বন্দেগী বাদ দিয়ে হাজারো গাজাবাসী বাধ্য হয়ে সময় গুজরা করছেন গ্যাস স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে। স্থলপথই শুধু নয়, ফিলিস্তিনীদের সমুদ্রপথেও মিসরে ঢোকার পথ মিসরীয় মিলিটারি বন্ধ করেছে। গাজার একটি একটি মাছ ধরা নৌকা লক্ষ্য করে কদিন আগে মিসরীয় সৈন্যরা গুলী চালায়। এতোদিন গুলী চালাতো ইসরাইলীরা তাদের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো মিসরীয় সেনা।

গাজা প্রশ্নে খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে মিসরের সেনা কর্তৃপক্ষ। সংবাদ মাধ্যমে জোর গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, হামাসের জঙ্গীরা মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থনে রীতিমতো তৎপর হয় উঠেছে। মিসরের এক জেনারেল সম্প্রতি বলেন, সরকারি কৌঁসুলিসূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত মুরসির সমর্থক ব্রাদারহুডের লোকেরা সরকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনী ও সিরিয়ানদের নিজেদের পক্ষে টানতে শুরু করেছে। আরো অভিযোগ করা হয়, কায়রো স্থিত ফিলিস্তিনীদের হাতে শটগান ও ক্যাশ অর্থ তুলে দিতে এক ফিলিস্তিনী নেতাকে মিসরীয় সরকারি কৌঁসুলি নাকি নিজে দেখতে পেয়েছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বাদ দিয়ে হামাসÑ তথা ফিলিস্তিনীরা ইদানীং মিসরীয় কোনো একটি পক্ষের সমর্থনে তৎপরতা শুরু করেছে বলেও মিসরে প্রচার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মোট কথা মিসরীয় অভ্যন্তরীণ অশান্ত পরিস্থিতির জোরে দুর্ভোগ পোহাতে সবচেয়ে বেশি বাধ্য হচ্ছেন ফিলিস্তিনীরা। কয়েকটি বাসে ভর্তি হয়ে ফিলিস্তিনীরা প্রতিটি দিন এসে উপস্থিত হচ্ছেন রাফাহ ক্রসিংয়ে মিসরে যাওয়ার জন্য অথবা মিসর হয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের সম্বন্ধে অতিসতর্ক ও সন্দিহান মিসরের মিলিটারি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত থেকে আদি যাত্রারম্ভ স্থলে ফিরে যেতে বারবার তাদের বাধ্য করছে। -অন ইসলাম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ