মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জীবনের যাত্রাপথ

কাজী রিয়াজুল ইসলাম

“একটা টিকিট চাই। আসনের বিষয়ে নেই কোনো প্রশ্ন। সামনে, মাঝে, পিছনে, ডানে বা বামে

যে কোনোখানে একটা আসন হলেই হবে। আসনে যদি না থাকে গদি তবুও কোনো আপত্তি

নেই। আরো বলিÑ টিকিট কেটে যদি সারাপথ দাঁড়িয়েও যেতে হয় তাতেও রাজী। শুধু

একটা টিকিট চাই। কেন না, আমাকে যেতেই হবে। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সে নিয়েছে

চিরবিদায়। দরোজা-জানালাবিহীন একটা নির্জন-নিরিবিলি ঘরে তাকে আজ রেখে আসতে

হবে; এ আমার ইস্পাতের শক্ত খাঁচায় আবদ্ধ ওয়াদার ধবধবে শ্বেত কবুতর। তাই তো

আমাকে যে কোনোভাবে যেতেই হবে।” বাসটার্মিনালে জনৈক ব্যক্তির এমন অকৃত্রিম

আকুতি-মিনতির প্রেমের প্রতিকৃতি দেখে খররৌদ্রে রাজপথের পিচের মতো গলে যায়

মন। কিন্তু এদিকে টিকিটের দুর্ভিক্ষ। সে ঢাকায় যাবে। আমিও খুব একটা জরুরি কাজে যাবো

ঢাকায়। তাই টিকিট আগেই রেখেছি কেটে। বিবেক-নিক্তির দুই পাল্লায় আমার আর অই

ব্যক্তির প্রয়োজনের লাগেজ দু’টো রাখি। দেখি, তারটাই ওজনে বেশি। তার আকুতি-মিনতির

কালবৈশাখী ঝড় আমার হৃদয়ের মহাসাগরে জাগালো সে কি ভীষণ তুফান। বিবেকের বিশাল

পাহাড়টাকে হাজারো চেষ্টা করে বুলডোজার দিয়ে কিছুতেই ভেঙেচুরে করতে পারিনি সমতল।

তাড়াতাড়ি আমার টিকিটটা তার হাতে তুলে দিয়ে যেন মহাতৃষ্ণায় প্রাণ যায় যায় মুমূর্ষু ব্যক্তির

এক গ্লাস সুপেয় শীতল পানি পাওয়ার মতো অব্যক্ত শান্তি পায়। একটু পরেই বাসটা

টার্মিনাল ছেড়ে চলে যায়। পরদিনই সকালে পত্রিকায় দেখি সেই বাসটাই গভীর খাদে

পড়েছে, নিহত হয়েছে সব যাত্রীই। সে কী থ’ হয়ে যাই। সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো

হয়ে যায়। সহসাই বলে উঠিÑ প্রভুগো! একী আজব রহস্যে ঘেরা জীবনের যাত্রাপথ....।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ