মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

বাংলাদেশকে নেশামুক্ত দেখতে চাই। এ সেদিন ঢাকার বাহিরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পোস্টার নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতার স্লোগান দিয়ে রাজপথ পরিক্রমা করছে দেখে ভালোই লেগেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল যুব সমাজ এবং নেশাগ্রস্ত লোকজনদেরকে নেশার কবল থেকে মুক্ত থাকার প্রয়াস। বাংলাদেশে সর্বত্র মাদকের বিস্তার যেভাবে দেখা দিয়েছে তাতে দেশের সচেতন মানুষ উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা যেভাবে বিড়ি-সিগারেট ও মাদক নেশায় জড়িয়ে পরেছে তা দেশের জন্য ভয়াবহ। শোনা যায় আজকাল অনলাইনেও মাদকের বেচা-বিক্রি চলছে। বলে রাখা ভালো যেভাবে মিয়ানমার থেকে সড়ক, নদী ও সিমান্ত পথে মাদক বা নেশা জাতীয় সামগ্রী অনায়াসে বাংলাদেশে ঢুকছে তা বিজিবি, কোস্টগার্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এখানে অনেক অবহেলা, উদাসীনতা এবং বাণিজ্য কাজ করছে যা নজরদারি এবং জবাবদিহিতার অভাবে নেশার সাগরে ডুবছে বাংলাদেশের যুবসমাজ।

অবাক হবার কথা, আমাদের দেশের একাংশের তরুণী ও গৃহবধূরাও হাবুডুবু খাচ্ছে নেশার কবলে। আর নেশার পাশাপাশি মরণব্যাধি এইডস দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। বহু যুবতী গৃহবধূ শিরাপথে মাদক গ্রহণ করায় তাদেরকে এইডসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। প্রায় রাজধানীর বিভিন্ন বার-রেস্টুরেন্টে পুলিশের তৎপরতায় দেখা যায় বিত্তবান পরিবারের তরুণ-তরুণীদের আটকের চিত্র। শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাহিরে একদল তরুণ-তরুণীর মাঝে যেভাবে মাদকের ছড়াছড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে এতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কথা জানা থাকা সত্ত্বেও এর প্রতিরোধ করার মত সরকারি ও বেসরকারি এনজিওগুলোর তেমন জুৎসই ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

বলে রাখা ভালো, মাদকের পাশাপাশি এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ শিরাপথে তরুণÑতরুণীদের প্রতিনিয়ত মাদক গ্রহণ করা। এদিকে শিরাপথে মাদক গ্রহণ এবং গন্ধহীন গুঁড়ো নেশা সামগ্রী কিভাবে গোটা দেশের শিক্ষিত প্রজন্মকে ধ্বংস করছে তা দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজের দিকে তাকালেই দেখতে পাওয়া যাবে। নেশায় তৃপ্তি আছে বলেই মাদকসেবীদের ধারণা। এ ধরনের নেশার কবলে পড়ে দেশের বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যা দেখার কেউ নেই। অভিভাবক, শিক্ষক বা গুরুজন এমনকি বাবা-মা’র কথাও কর্ণপাত করে না নেশাগ্রস্ত তরুণ-তরুণীরা। অনেক পরিবার নেশা বা অন্যদিকে তাদের খরচ মিটাতে গিয়ে মাদক সেবনকারীদের গোটা পরিবার আজ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। এ সকল নেশাগ্রস্তদের অভিশপ্ত জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরৎ আনার কোন উদ্যোগ নিতে সরকারি মহলের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। এক শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুদের পাল্লায় পরে ড্রাগসের স্বাদ নিতে গিয়ে তাদের নিজেদের জীবন অভিশপ্ত জীবনে পরিণত হয়ে পড়েছে।

এক কথায় দেশের যুব সমাজ তথা বর্তমান প্রজন্ম আজ নেশার কবলে পরে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে। আর পিতা-মাতা অভিভাবকরা হতাশ-দিশেহারা। নেশার কবলে পরে আমাদের দেশের অনেক ছেলে-মেয়েরা এইডস-এ ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদক এবং এইডস এর বিরুদ্ধে দেশে তেমন কোনো প্রচার বা সরকারি কর্মতৎপরতা দেখা যায় না। দিন দিন মাদক বা নেশার কারণে অভিভাবকদের মাঝে চিন্তার ভাঁজ, দিশেহারা, পরিবারে অশান্তি এবং অনেক ক্ষেত্রে ভয় ভীতির আশংকায় অতিষ্ট গোটা জাতি। সমাজ থেকে যেকোনো উপায়ে মাদকের এ ভয়ঙ্কর প্রবণতা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে তাকে কোনো সন্দেহ নেই। দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে হলে সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় গোটা সমাজব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে পড়বে।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক।