মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ওমান উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেহরানের ওপর পুনরায় তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ থেকে ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারের এই প্রধান মানদণ্ডের দাম ৫.২০% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮.০২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): যুক্তরাষ্ট্রের এই বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ১.৪১% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪.৫৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

মুরবান ক্রুড (Murban Crude): এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির এই তেলের দামে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গেছে। এর দাম এক ধাক্কায় ৬.৬৭% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.৫৭ ডলার হয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস: তেলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও ০.২৫% বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩.২২০ ডলারে উঠেছে।

দাম বাড়ার মূল কারণসমূহ

১. মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভাঙন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে 'কার্যত শেষ' বলে ঘোষণা করায় বাজারে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২. হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি: বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০% বা এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় কাতার ও সৌদির তেল ট্যাংকারে হামলার জেরে এই রুটের অন্তত ৪টি বিশাল ট্যাংকার মাঝ-সাগর থেকে পথ ঘুরিয়ে নেওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের শঙ্কা জোরালো হয়েছে।

৩. নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল: ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অপরিশোধিত তেল বিক্রির লাইসেন্স বা সাময়িক সুবিধা বাতিল করেছে।

৪. মার্কিন মজুত হ্রাস: আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (API)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুত ধারণার চেয়েও বেশি (প্রায় ২.৪ মিলিয়ন ব্যারেল) হ্রাস পেয়েছে।বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি

বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন মূলত দুটি বিষয়ের ওপর রয়েছে:

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা কী ধরনের সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়।

হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক থাকে নাকি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হয়।

যদি এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।