বাংলাদেশকে নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। মির্জা গালিব বলেছেন, “কাজের কাজ না করে আলগা পিরিত দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।”

শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “বাংলাদেশে স্ট্রং ডেমোক্রেসি, আমাদেরও স্ট্রং ডেমোক্রেসি। 'দুই ডেমোক্রেসি মিলে গেলে' একটা ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যাবে, একটা পুরো ইকোনমিক ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যাবে। এই মেলামেশাটা দরকার।”

এর প্রতিক্রিয়ায় মির্জা গালিব লিখেছেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বাংলাদেশে এসেছেন। এসেই তিনি দুই দেশের "একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা" দেখতেছেন। অথচ ভারত কখনোই বাংলাদেশের সাথে বা বাংলাদেশের জনগণের সাথে গণতান্ত্রিক সম্পর্ক তৈরি করতে চায় নাই। তারা বরং বাংলাদেশের শুধু একটা রাজনৈতিক দলের সাথে বিশেষ সম্পর্ক মেইন্টেইন করেছে, সেই দলকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য দেড় দশক ধরে সবরকমের সাহায্য-সহযোগিতা করে গেছে, এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাকে এখনও তার দেশে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। হাসিনার হাতে গুম, খুন ও দমন-পীড়নের যেই রক্তের দাগ লেগে আছে, সেইটা হাসিনার সাথে সাথে ভারতের হাতেও লেগে আছে।

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের শর্ত নিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সাথে একটা ভাল গণতান্ত্রিক সম্পর্ক তৈরির প্রথম শর্ত হচ্ছে, এই লজ্জাজনক পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভারতের শেইম ফিল করা, এবং অনুশোচনা প্রকাশ করা। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা দেওয়া। ফারাক্কা চুক্তি হইছে প্রায় ৩০ বছর, কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য পানি দেয় নাই। তিস্তা চুক্তিও ঝুলায়ে রাখছে অনেকদিন। তৃতীয় শর্ত হলো সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ করা। আপনি প্রত্যেক বছর গুলি করে ৩০-৪০ জনকে মারবেন আর মুখে মুখে পিরিতের গল্প করবেন, এইটাতো হবে না দাদা।'

তিনি বলেন, কাজের কাজ না করে আলগা পিরিত দেখাইয়া কোনো লাভ নাই। আপনারা যদি ভাল প্রতিবেশীই হইতেই চান, তাইলে বাংলাদেশের মানুষের এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানাইয়া তাদের অধিকার আর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়াই সম্পর্ক করতে হবে। সম্পর্ক হবে জনগণের সঙ্গে, কোনো নির্দিষ্ট দল বা শাসকের সঙ্গে নয়।

সবশেষ তিনি বলেন, আর যদি এর চাইতে আরো বেশি পিরিত দেখাইতে চান, তাইলে আমরা ভারতে মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার কতটুকু স্বাধীনতা আছে, কিংবা গরুর গোশত বিক্রি করার অভিযোগে গত ১০ বছরে কতজনকে আপনারা মব করে মেরে ফেলছেন, আর কেমনে আপনারা ভারতের বিভিন্ন মসজিদের নিচে একটা করে মন্দির খুইজা পান সেই সব নিয়াও আলোচনা করতে পারি। আমরা যে ১৯৪৭-এর পর থেকে কোরবানি দিয়া পেট ভইরা গরুর গোশত খাইতে আর কোনো সমস্যায় পরি নাই, সেই আলাপও করতে পারি। বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগতম। শুধু মনে রাইখেন, আপনাদের মন-প্রাণ দিয়া সমর্থন করা, টিকাইয়া রাখা বিগত সরকার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারাইয়া পালায়ে গেছে '২৪-এ, তারে আপনাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এখন খাওয়ায়ে-পরায়ে দিল্লিতে রাখতে হইতেছে আপনাদেরই। হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ, ডিয়ার নেইবর।