রাবি রিপোর্টার : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে। তারা অতীতে যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, ততবারই জাতির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর আলুপট্টির শহীদ আলী রায়হান চত্বর “৩৬ জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের” দাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরী শাখার উদ্যোগে এক ছাত্র-যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “নির্বাচনের আগে তিনি গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ তার আশঙ্কা ছিল বিএনপি সরকার গঠন করলে গণভোট বাস্তবায়ন করবে না।” সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরী সভাপতি ইমরান নাজির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু’র জিএস এস এম ফরহাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. সালাহউদ্দীন। অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে ছিলেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজউদ্দিন মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম বুলবুল, ব্যবসাবিষয়ক সম্পাদক একেএম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, রাবি শিবির সাবেক সভাপতি হাফেজ নুরুজ্জামান, রাবি শিবির সেক্রটারি হাফেজ মেহেদী হাসান প্রমুখ।

সমাবেশে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বিএনপি একটি স্বীকৃত মুনাফেকের দল। অতীতে তারা সংসদে দাঁড়িয়ে দৃঢ়ভাবে বলেছিল, দেশে আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে না। কিন্তু জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে তারা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেই তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।” কেন্দ্রীয় শিবিরের প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফারহাদ বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো আন্দোলনের ন্যায্য দাবি শুরুতেই মেনে নেয় না; বরং পরিস্থিতি জটিল ও ঘোলাটে হওয়ার পর তা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে সরকার সংবিধান সংস্কারের কথা বললেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় রয়েছে।” তিনি বলেন, “১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়েছিল, যার অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই ব্যবস্থা বাতিল করে। ভবিষ্যতে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনো সংশোধনী আনা হলেও আদালতের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সেটি আবারো অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করা হতে পারে।” তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন করতে চায় বলে জানিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-এর বিষয়টি সংযোজন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার বাতিল করে। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও বাতিল করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “ভবিষ্যতেও একই ধরনের যুক্তি দেখিয়ে এসব বিষয় আবারো বাতিল করা হতে পারে। তাই আমরা এমন একটি সংবিধান সংস্কার চাই, যেখানে গণপরিষদভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী ও কার্যকর সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।” সমাবেশের আগে শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সন্ধ্যায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।