# ‘৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে’

সংসদ রিপোর্টার:

জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সংসদে সংবিধান সংস্কার না হলে জনগণের কাছেই যাবেন বলে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ (চার্টার) তৈরি হয়েছিল, তার ভিত্তিতে জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কারে সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাবেন এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি। ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর প্রস্তাবে সিন্ডিকেট খেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জামায়াত নেতা ড. নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী 'সংস্কার পরিষদ'

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ পরিচালনার জন্য একটি ন্যাশনাল কনসেন্সাস কমিশন গঠন করা হয়। সেখানে মাসের পর মাস ৩১টি কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন ডায়লগ করার পর একটি চার্টার তৈরি করে, যেখানে প্রায় সব দল স্বাক্ষর করেছিল।

তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার ছিল এই সংসদ ও নির্বাচনকে অর্থবহ করা। সেই অনুযায়ী একই দিনে প্রথমে 'সংসদ সদস্য' হিসেবে এবং পরে 'সংস্কার পরিষদ'-এর সদস্য হিসেবে একই সাথে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। আমরা বিরোধী দল দুটি শপথই নিয়েছি। কিন্তুসবাইকে অবাক করে দিয়ে সরকারি দল রাতারাতি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিল, কিন্তু সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করল। তারা দোহাই দিল যে এটি সংবিধানে নেই। অথচ সংবিধানে এই নির্বাচন বা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের সরকারের কথাও উল্লেখ নেই। জাতির প্রয়োজনেই এগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায়কে অগ্রাহ্য করা মানে মানুষকে অপমান করা। আমরা সংসদে এই কথাটি তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সংসদকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে আমাদের দাবি তোলার সুযোগটি বার বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সংসদ আমাদেরকে সুযোগ দিল না, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা জনগণের পার্লামেন্টে (রাজপথে) চলে যাব। সংসদে কথা বলতে স্পিকারের পারমিশন লাগে, কিন্তু জনগণের পার্লামেন্টে কোনো পারমিশন লাগবে না। আমরা জনগণের ওয়াদার সাথেই থাকবো।

তিনি আরো বলেন, সরকারি দল মেজরিটির জোরে সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনের প্রস্তাব এনেছে। আমরা বলেছি, জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য রায় দিয়েছে। হাইকোর্ট সংশোধনী বাতিল করতে পারে কিন্তু সংস্কারে হাত দিতে পারে না। এর আগে হাইকোর্টের বেঞ্চ বিকেন্দ্রীকরণ ও কেয়ারটেকার ব্যবস্থা যেভাবে কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে আমরা দুই ধরনের সরকার দেখেছিÑজনগণের দ্বারা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার এবং সামরিক সরকার। বেশিরভাগ সময় দেশ শাসন হয়েছে গণতন্ত্রের নামে, কিন্তু গণতন্ত্র আজ পর্যন্ত সুদৃঢ় ভিত্তি পায়নি। মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাওয়ার ফলে জনগণ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এই হতাশার মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব আব্বাস আলী খান সর্বপ্রথম বায়তুল মোকাররমের সমাবেশ থেকে জাতির সামনে 'কেয়ারটেকার ফর্মুলা' উপস্থাপন করেন। এরশাদ সাহেবের ক্ষমতা ছাড়ার পর নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াত থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে এই ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা গ্রহণ না করায় আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে বিল পাসের মধ্য দিয়ে এটি সংবিধানে যুক্ত হয় এবং এর অধীনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপন সর্ম্পকে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মমতার মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করা হয়, যেখানে দুই দিনে ৩৪ জন মানুষ নিহত হন। এর ফলে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের অসহযোগিতা এবং বিশৃঙ্খলার কারণে তারা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সেনাসমর্থিত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার গঠিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত, তারা দুজনই এখন দেশের বাইরে আছেন, কিন্তু দেশ দেশের জায়গায় রয়ে গেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইনি মারপ্যাঁচে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে মুছে ফেলে। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে এটি আবার ফিরে এসেছে, তবে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ কী হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

প্রবাসীদের প্রসঙ্গে

প্রবাসীদের বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এই কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে খেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবো না, ইনশাআল্লাহ।

প্রবাসীদের পক্ষে সব সময় জোরালো বক্তব্য রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা এই দাবি ইনশাআল্লাহ জোরালোভাবে উত্থাপন করব সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন। আজকে খবর পেলাম যে একদল আমার বিরুদ্ধে খেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি কি দালালের কোনো তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানা মতে আমি কি কোনো সংস্থার কথা বলেছি? জানা মতে বলিনি, তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?

তিনি আরও বলেন, এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বেই আমাদের এই গরীব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতারিত হয়। সেখানে গিয়ে আবার দেখা যায় যে তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নাই। জেলে থাকে। তা আমরা কি এগুলো নীরবে হজম করব? দেখতে থাকবো? না। এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো? আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো। আওয়াজ তুলবো। বাইরেও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করবো।

বাজেট প্রস্তাবনা ও জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’

বিরোধী দলীয় নেতা বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, বাজেট পেশ করার আগেই আমরা একটি ছায়া বাজেট পেশ করেছিলাম। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহযোগিতায় আমরা আগেই উপলব্ধি করতে পারছিলাম বাজেট কেমন হতে পারে এবং বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কোথায় কথা বলার সুযোগ থাকবে। আমরা যেমনটা ধারণা করেছিলাম, এবারের মূল বাজেটটি আমাদের ছায়া বাজেটের কাছাকাছি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বড়, ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বড়। অতীতের ধারাবাহিকতায় এই বাজেটেও ঘাটতি আছে এবং ঋণ নিতে হবে। ঋণ নেওয়ার উৎস মূলত তিনটিÑঅভ্যন্তরীণ খাত, বৈদেশিক ঋণ এবং বৈদেশিক অনুদান। এর বাইরে থেকে আর টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ৫৫ বছরেও আমরা আমাদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে পারিনি। এর কারণ এটি নয় যে আমাদের সম্পদের অভাব রয়েছে; এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের ভিশন এবং সততার অভাব। একটি জাতি কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব তাদেরই, যাদেরকে জনগণ দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দেয়।

বাজেট প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বিলুপ্ত করায় আমরা ধন্যবাদ জানাই। গরিব মানুষ ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে উৎসে কর বা অগ্রিম কর প্রত্যাহারের যে দাবি আমরা জানিয়েছিলাম, অর্থমন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছি, কারণ এটি স্বল্প আয়ের মানুষের বাহন এবং পরিবেশবান্ধব। অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে এসআরও র মাধ্যমে এটি সমন্বয় করা হবে।

অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব

তিনি অর্থ বছর পরিবর্তনের বিষয়ে বলেন, আমাদের দেশে জুলাই-জুন অর্থবছর হওয়ায় উন্নয়নের একটি 'দানব' তৈরি হয়েছে। ৯ মাস হাত-পা গুটিয়ে ঘুমিয়ে শেষ ৩ মাসে তাড়াহুড়ো করে কাজ করা হয়। ফলে নয় মাসে ৪২% কাজ হলে শেষ তিন মাসে ৫০% কাজ দেখিয়ে জনগণের টাকা পানিতে ভাসিয়ে অপচয় করা হয়। আমরা প্রস্তাব করেছি অর্থবছর যেন জানুয়ারি ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১ পর্যন্ত করা হয়, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কাজগুলো সঠিকভাবে শেষ করা যায়।

শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জন

তিনি গুল্কমুক্ত গাড়ির বিষয়ে বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় ওয়াদা করেছিলাম যে আমাদের কোনো সদস্য এমপি বা মন্ত্রী হলে বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবেন না বা সরকারি অতিরিক্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। আমরা সেই ওয়াদা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এমপিদের জন্য যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়, তা কেবল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য। যতদিন সংসদ কার্যকর থাকবে, ততদিনই শুধু এটি ব্যবহার করা যাবে। সংসদ বিলুপ্ত হলে এক সেকেন্ডও সেখানে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। এটা নিয়ে জলঘোলা করার কিছু নেই।

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং দুর্নীতিÑএই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, তবে বাজেট যতই বড় হোক, তার সুফল পাওয়া যাবে না। গত সাড়ে ১৫ বছরে যে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, দুর্নীতির সংস্কার না হলে এই বাজেট থেকেও টাকা পাচার হয়ে যাবে।

জুলাই বিপ্লব

জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ ও সরকার সবকিছুই জুলাই বিপ্লবের অবদান। কিন্তু বাজেট বক্তৃতায় 'জুলাই জাদুঘর' ও 'জুলাই ফাউন্ডেশন' নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। জুলাই না থাকলে আমরা আজ কোথায় থাকতাম? আমরা সংসদে এই দাবি জোরালোভাবে তুলব।

৩৬ দিনের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি

সংসদ কোনো গানবাজনার জায়গা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদের প্রতি মিনিটে জনগণের ট্যাক্সের ২ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সংসদকে কাদা ছোড়াছুড়ি ও চরিত্র হননের জায়গা না বানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অনেকে আমাদের নরম ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ৫৪ বছরের 'গরম' বা তাপে দেশের ভাগ্য এবং ভোটের অধিকার গুম হয়ে গেছে। আমরা কোনো উসকানিতে পা দেব না। একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা আজ থেকে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি, যা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ হবে।

তিনি বলেন, লেজিসলেটিভ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যম হলো সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধÑআপনারা কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলুন। আমাদের কোনো ভুল থাকলে তাও ধরিয়ে দিন, তবে তা যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়, যাতে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতি

বিরোধীদলীয় নেতা তিস্তা সর্ম্পকে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত ইতিবাচক, কারণ এর সাথে আড়াই কোটি মানুষের ভাগ্য জড়িত। আমরা আমাদের স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। এতে আমাদের বন্ধুরা খুশি হলে ভালো, আর কেউ বেজার হলে তাদেরকে আমরা রাজশাহী থেকে আম পাঠিয়ে খুশি করব।