বিশেষ প্রতিনিধি, টোকিও: জ্ঞানচর্চা, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আদর্শিক প্রেরণাকে সামনে রেখে ইসলামিক মিশন জাপানের কান্তো অঞ্চলের উপশাখা দায়িত্বশীল ও কর্মীদের দিনব্যাপী শিক্ষা বৈঠক–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) সাইতামা প্রিফেকচারের একটি কমপ্লেক্সে এ শিক্ষা বৈঠকে কান্তো অঞ্চলের বিভিন্ন উপশাখার দায়িত্বশীল, সদস্য ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক অধিবেশনে নিবন্ধন, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমেদ প্রবাসে ইসলামী আদর্শের চর্চা, আত্মশুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দক্ষ, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (এমপি)। তিনি বলেন, “জাপানে আমরা যে শৃঙ্খলা, সততা, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যক্ষ করি, সেগুলো মূলত ইসলামেরই মৌলিক শিক্ষা। সূরা আস-সফ আমাদের শিক্ষা দেয়—কেবল মুখে ঈমানের দাবি নয়; বরং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, আন্তরিক আমল এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা শুধু শ্রমিক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবী নন; তারা একই সঙ্গে ইসলামের এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি। একজন মুসলিমের সততা, কর্মনিষ্ঠা, আইন মেনে চলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও উত্তম চরিত্রই হতে পারে প্রবাসে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী দাওয়াহ।” তিনি অংশগ্রহণকারীদের জাপানের শৃঙ্খলা, কর্মসংস্কৃতি ও দায়িত্ববোধ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

পরবর্তী অধিবেশনে “উপশাখা পরিচালনায় দায়িত্বশীলের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা উপস্থাপন করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমেদ।

তিনি বলেন, একজন আদর্শ দায়িত্বশীলের প্রকৃত শক্তি তার পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং তাকওয়া, ইখলাস, আমানতদারিতা, বিনয়, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক সেবার মনোভাবেই নিহিত। তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জাপানের আইন-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলা, স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার চর্চা, নতুন প্রজন্মের নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মধ্যাহ্নভোজ ও সালাতুয যোহরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় “ইসলামী আন্দোলন: কী ও কেন?” শীর্ষক গ্রুপভিত্তিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য, ব্যক্তি ও সমাজ গঠনে এর ভূমিকা এবং সমকালীন প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক-এর “ইসলামিক মিশন জাপান: যে অতীত প্রেরণার” শীর্ষক আলোচনার মাধ্যমে। তিনি সংগঠনের দীর্ঘ পথচলা, ঐতিহ্য, প্রবাসে ইসলামী দাওয়াহ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাংগঠনিক আদর্শ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনে “উপশাখার মৌলিক কর্মসূচি ও পরিচালনা” বিষয়ে কর্মশালা, দিনব্যাপী আলোচনার ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা, আত্মসমালোচনা (এহতেসাব), কর্মী শপথ গ্রহণ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায়

দিনব্যাপী শিক্ষা বৈঠকে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক মিশন জাপানের সহ সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও প্রকাশনা সম্পাদক মীর আলী আহকাম লিখন প্রমূখ

সবশেষ ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমেদের সমাপনী বক্তব্য এবং প্রধান অতিথি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (এমপি)-এর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শিক্ষা বৈঠকের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।