দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বারোপাড়া ইউনিয়নের ষোলপাড়া গ্রাম থেকে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমী আক্তারকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়িয়াখাল গ্রামে ফুচকা ও চটপটি তৈরির কারখানা চালু করেন জাকির হোসেন দম্পতি। ব্যবসার শুরুতে সুনামের সঙ্গে কারবার চালালেও একপর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে ওই এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষের কাছ থেকে প্রতি লাখে ৪-৬ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে ঋণ সংগ্রহ করেন তারা। এক বছরের মধ্যে দম্পতি প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।

কিন্তু সময়মতো ঋণ শোধ করতে না পারায় দুই মাস আগে কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে দাউদকান্দির ষোলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে চলে আসেন তারা। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকালে গজারিয়ার শতাধিক পাওনাদার বাস ও গাড়ি নিয়ে দম্পতির গ্রামের বাড়ি ঘেরাও করেন এবং তাদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জাকির হোসেন দম্পতিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, সুমী আক্তার মহিলাদের কাছ থেকে প্রতি লাখে ৪-৫ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। দুই বছরের লেনদেন শেষে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে আসায় ক্ষুব্ধ পাওনাদাররা শনিবার তাদের বাড়ি ঘেরাও করেন।

বারোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আল-আমিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে গজারিয়ার ভুক্তভোগীরা আমার কাছে নালিশ করেছিলেন। আমি তাদের প্রমাণ আনতে বলেছিলাম। আজ তারা একসঙ্গে এসে দম্পতির বাড়ি ঘেরাও করে।’

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘পাওনাদারদের বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমী আক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।’