খুলনা ব্যুরো ও মংলা সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের পানিসীমায় অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় আটক হয়েছেন ৩৪ জন ভারতীয় জেলে। তারা অন্তত ১০টি প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, যার মধ্যে ইলিশ, রূপচাঁদা, চিংড়ি, ছুরি, বেলে প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য, অবৈধভাবে আহরণ করেন। তবে মাছগুলো ভারত নেওয়ার আগেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের সময় তারা ধরা পড়েন। গত সোমবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে ‘এফবি ঝড়’ ও ‘এফবি মঙ্গল চণ্ডি-৩৮’ নামে দুটি ভারতীয় ফিশিং ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজের রাডারে সন্দেহজনকভাবে মাছ ধরার ট্রলারের গতিবিধি শনাক্ত হলে সদস্যরা এগিয়ে যান এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ধাওয়া করে ট্রলারসহ জেলেদের আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০-এর ২৫ (এ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হিসেবে ে মংলা নৌঘাঁটির পেটি অফিসার রেজাউল করিম অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
অপরদিকে, জব্দ করা প্রায় আট হাজার কেজি মাছ মোংলা উপজেলার মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে নিলামে তোলা হয়। সোমবার রাত ১১টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত চলে নিলামের কার্যক্রম। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘সাগর ফিশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মাছগুলো ক্রয় করে। এতে ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা (মূল্য সংযোজন করসহ) সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
মংলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামুদ্রিক মৎস্য আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে শিকার করা মাছ নিলামের মাধ্যমে বৈধভাবে রাষ্ট্রের অনুকূলে তুলে নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে এবং অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা ব্যুরো : মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর ইলিশ মওসুম এলেই ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় এসে তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের প্রশাসনও ভারতীয় জেলেদের আগ্রাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থেকে তাদের টহল জোরদার রেখেছে। বিভিন্ন সময় আটকও করছে ভারতীয় জেলেসহ তাদের জাল, ট্রলারসহ ব্যাহৃত হরেক রকমের সরঞ্জাম। দেশীয় পানিসীমার আওতাভুক্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, দস্যু দমন, সুন্দরবনের বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত এ অভিযান চলবে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।