বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানাখানাবাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রেমাশিয়া এলাকায় সমুদ্রের প্রবল ঢেউ আর স্রোতের আগ্রাসনে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ। বাঁধ ভাঙন শুরু হওয়াতে পুরো এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে, ভাঙন বেড়ে যাওয়াতে ঝুঁকিতে পড়েছে হাজারো পরিবারের মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, বাঁশখালীতে ৩শ’ কোটির অধিক অর্থব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধটি নির্মাণের কয়েকবছর যেতে না যেতেই খানাখানাবাদের প্রেমাশিয়া পয়েন্টে ব্লকসহ বাঁধটির অনেকাংশে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। কাজের দায়িত্ব পাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ব্লক এবং বাঁধ নির্মাণ করায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো মানুষের দীর্ঘ স্বপ্নের প্রতিফলন হয়নি। যার ফলে ব্লকসহ বেড়িবাঁধটি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। পুরো এলাকাজুড়ে আবারও পানি আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে খানখানাবাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেমাশিয়া পয়েন্টে অন্তত ২শ’ মিটার অধিক বাঁধের অংশই সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, সমুদ্রের আগ্রাসনে প্রেমাশিয়াতে বেড়িবাঁধের প্রায় অংশ সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ফলে পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকায় পানি আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোন সময় বাঁধটির অবশিষ্ট অংশটুকুও তলিয়ে যেতে পারে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে বাড়িঘর, পুকুর, কৃষিজমিসহ সর্বস্ব হারাবে উপকূলের হাজারো পরিবারের মানুষ।

তলিয়ে যাওয়া বাঁধটি দ্রুত সংস্কার করার জন্যে সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন, বিশেষ বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছে চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বাঁশখালী পওর শাখা-১ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম কাদির জানান, খানখানাবাদ এলাকায় ১৩শ মিটার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, এরইমধ্যে ব্লক তৈরি কাজ চলছে। দক্ষিণ প্রেমাশিয়া অংশের ভাঙ্গণ এলাকাটি এই প্রকল্পের আওতাধীন নয়, তবে ওই এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি উপরস্থ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান গোলাম কাদির।