ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : নানা সমস্যায় জর্জরিত কক্সবাজার জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজার।
প্রতিবছর সরকার এ বাজার থেকে আয় করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সরকারি উদ্যোগে বিগত কয়েক যুগেও এ বাজারের দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি। গঠিত হয়নি সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি। যার কারণে উপজেলা পরিষদের ওয়ান পার্সেন্টের টাকা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এ বাজার।
বাজারের সহ-সম্পাদক হাসান তারেক জানান, বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ যেহেতু সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নয়, সেহেতু তারা কারো কাছ থেকে কোন ধরনের ফান্ড পাননি। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফোরকান আহমেদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অনেকের নিকট তারা দৌড়ঝাঁপ করলেও কোন ফান্ড আনতে পারেননি। তবে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের মাধ্যমে মাছ বাজারের জন্য একটি ভবনের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। যা এখন প্রায় দৃশ্যমান।
তাদের সময়ে বাজারের ড্রেনেজ সিস্টেমের বাস্তবায়নেও তারা ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন হাসান তারেক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফান্ড সংকটের কারণে কয়েকজন প্রহরীকে তারা বিদায় করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাজারের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত নুরুল হোসাইন ও বসির জানান, অনেকদিন যাবত তাদের অফিসে আসেন না কর্মকর্তারা। তবে তারা ডিউটির ফাঁকে রেস্ট নিতে এবং হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণ করতে মাঝে মধ্যে অফিসে বসেন।
বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী মিন্টু জানান, বাজার কমিটি বর্তমানে কার্যকর নয়। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অফিসে যান না। ইউএনওর কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করতে গিয়ে জালালাবাদ চেয়ারম্যানের অনুরোধে আর পদত্যাগ করা হয়নি। তিনি বর্তমানে বাজার কমিটির কার্যক্রম চেয়ারম্যান পরিচালনা করছেন বলে জানান।
বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের অর্থ সম্পাদক নুরুল আমিন জানান, বাজারের কমিটির কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রথম নিউজটি তিনি পড়েছেন।
সেখানে বর্তমান বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাজার সংশ্লিষ্ট দুইটি কমিটি অনুমোদন হয়েছে। সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির আলোকে এ কমিটি অনুমোদন নেয়া হয়।
এরপরও বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা চাইলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার পরে বসে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। ২০২০ এর ১৮ মার্চ এ পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং প্রচুর টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।