স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে স্মারকলিপি প্রদান পূর্বে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, কামরুজ্জামান মামুন, প্রিন্সিপাল লোকমান হোসেন, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ আজিজুল হক, আহমদুল কবির ফয়সাল, মারিয়া সুলতানা, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ও শামসুজ্জামান সিকদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পনের বছরের স্বৈরশাসন, বৈষম্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে—তার চেতনায় শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, আদর্শ ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে নতুন সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে বারবার নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাব, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ আমাদের নিজস্ব শিক্ষা কাঠামো বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতি ও ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়িত পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে, যেখানে বিদয়াত ও শিরকিয়াতের মতো বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মনে করে, একটি টেকসই, যুগোপযোগী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না। তাই ফেডারেশন বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় বাস্তবতার আলোকে শিক্ষাক্ষেত্রে নীতিগত সংস্কার ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিতে নিম্নোক্ত দাবিগুলো পেশ করে—
বাড়ি ভাড়া ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা, চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা নির্ধারণ, শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান, প্রস্তাবিত ১০৮৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা, নন-এমপিও শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া ভাতা দ্রুত পরিশোধ এবং বিগত সরকারের সময় যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক তাঁদের পাওনা পাননি—তা নির্বাহী আদেশে প্রদান করা।
শিক্ষক নেতারা বলেন, এসব প্রস্তাব গৃহীত হলে শিক্ষাক্ষেত্রের মৌলিক ত্রুটি দূর হবে এবং সৎ, দক্ষ, আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।