শেখ মো. সামসুদ্দোহা মাদারীপুর : পদ্মাসেতু এলাকা থেকে ফিরে : মাগরিবের সময় রফিকুল নামে শিবচরের মাদবরচরের মোল্লাবাজার স্ট্যান্ডার্ড-এর রেল লাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন। এদিকে ঢাকা থেকে ভাঙাগামী একটি রেলের সাথে ধাক্কা খেয়ে লাইনে ছিটকে পড়ে সাথে সাথে তার দেহ চার টুকরা হয়ে যায়।

খান (৩২) নামের এক যুবক ঢাকা থেকে শিবচরের পাঁচ্চর যাত্রী ছাউনিতে নামে। পরে যাত্রী ছাউনি সংলগ্ন ঢাকা-ভাঙা রেল লাইনের ওপর বসেছিল। এসময় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত মারুফ খান শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চরবাচামারা ফেলু হাজীকান্দি গ্রামের আমিনউদ্দীন খানের ছেলে। মধ্য অঞ্চলের পদ্মাসেতুর নিকটস্থ শিবচরের রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফলে বাড়ছে অপমৃত্যুর মিছিল। মাদারীপুরের শিবচর পদ্মা রেল স্টেশন থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ট্রেন লাইন যেন এক মৃত্যুর ফাঁদ তবে মৃত্যুর জন্য দায় নিচ্ছে না কেউ। ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার জন্য কাউকে দায়ী করার সুযোগ থাকে না, যার কারণে এসব ঘটনার পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়ে থাকে মাত্র। এ ক্ষেত্রে ধরে নেয়া হয়, মৃত ব্যক্তি নিজের ভুলেই মারা গেছেন এমনটাই জানালেন মাদারীপুরের শিবচর রেল স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, ট্রেন চলে নিজ সীমানায় নিজের গতিতে। চাইলেই দ্রুতগতির ট্রেন থামানোরও সুযোগ নেই চালকের। এ কারণে মানুষকে সচেতনভাবে রেললাইন পার হওয়া দরকার।’

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মাদারীপুর জেলার শিবচরে রেল লাইন চালু হবার দেড় বছরে রেলে কাটা পড়ে কমপক্ষে ২ ডজন মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনে কাটা পড়ে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে রেলওয়ে ক্রসিংয়ের বাইরে। অর্থাৎ, সাধারণ রেললাইনের ওপর দিয়ে অসাবধনতায় পারাপারের সময় এসব মৃত্যুর ঘটনা বেশি। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানায়, আনমনে রেললাইন পার হওয়ার কারণেই ঘটছে মৃত্যু। অনেকে আবার আত্মহত্যা করছেন চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিকেলে শিবচরের পাঁচ্চর এলাকার রেললাইনে ঘুরতে আসা মানুষের আড্ডা বসে। বিকেল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এই ভিড় থাকে। মূলত, ঘুরতে এসেও রেলে কাটা পড়ে মারা যায় অনেকেই। তবে অনেকেরই ধারণা, রেল লাইনে হত্যাকান্ডের মতো ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে!

জানা গেছে, ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলে এই রুটে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল এবং রাতে ট্রেন যাওয়া-আসা করে।

এই এলাকায় প্রথমবারের মতো রেল লাইন নির্মাণের সময় থেকে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয় রেল সড়ক পথ। বাড়ির আশেপাশে হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয়রা ঘুরতে বের হয় রেল লাইনে। সন্ধ্যার পর ভিড় যেন আরও বাড়তে থাকে। রেল চালুর পরও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচর রেল স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন আরো বলেন, এই লাইনটি খুবই গতিশীল। এখানে ১ শত কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে রেল চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাটাহাটি বন্ধ করতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। রেল লাইন ঘুরার জায়গা না।