দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা : জামালপুর জেলার সর্ব উত্তরে ও ভারতের মেঘালয় দেশের গাড়ো পাহাড় ঘেষে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার পশ্চিমে যমুনা নদী ও পূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী বয়ে যায়। গত দু’দশকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী, চিকাজানী, বাহাদুরাবাদ, হাতিভাঙ্গা ও সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের শত শত বিঘা ফসলী জমি, বাড়ী-ঘর, গাছপালা, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, কবরস্থান, হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে। নদী ভাঙন অব্যহৃত আছে। গত হলকার চর গ্রামের সুমন দাস নামে এক যুবক নদীর পাড়ে মাছ ধরার জন্য অপেক্ষা করতে ছিল। সে সময় নদীর পাড় ভেঙে তার উপর পরলে সে ডুবে যায়। ডুবুরীগণ তার লাশ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। পরে দু’দিন পর সুমন দাসের লাশ ভেসে উঠে। দু’দশকে যমুনার ভাঙনে বড়খাল উচ্চ বিদ্যালয়, বড়খাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাকোয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর হলকা হাবড়া বাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মাগুরীহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সর্বশেষ গত ১ মাস পূর্বে চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি করালগ্রাসী যমুনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় বিলীন হয়ে যায় ব্রীজ কালভাট ও রাস্তা ঘাট। ভিটে মাটি হারিয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তায়, সরকারী বাঁধে ও রেললাইনের পার্শ্বে। এতে দু’দশকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ভৌগলিক মানচিত্রই পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙনে এক গ্রামের লোক অন্য গ্রামে বসতি স্থাপন করেছে পরিবর্তন হয়েছে অনেকের ঠিকানা। বাড়ী-ভটা হারিয়ে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। করালগ্রাসী যমুনার ভাঙন রোধে দেওয়ানগঞ্জ থেকে সানন্দবাড়ী পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দান প্রয়োজন বলে বিশিষ্টজনরা জোর দাবী জানাচ্ছেন।