দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মিজানুর রহমান রিপন (৪৮) নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারপিট ও লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সদস্য মিজানুর রহমান রিপন ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক আমার সংবাদ’ পত্রিকার দৌলতপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেইলি নিউজ বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ফিলিপনগর পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান রিপন রোববার রাতে হামলাকারী খালিদ হাসান আর্জু (২২) এর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। একইসাথে অভিযোগ করা হয়েছে দৌলতপুর সেনা ক্যাম্পেও। তবে হামলাকারী আর্জু প্রকাশ্যে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দৌলতপুরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা রয়েছেন উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।
হামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, গত ৮জুন দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থানার মোড় এলাকায় অবস্থিত তারাগুনিয়া ক্লিনিকে সিজার করার সময় আখি খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। প্রসূতির মৃত্যুর খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে ও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৌলতপুর উপজেলা বাজারের পাশে গড়ে উঠা অনুমোদহীন অবৈধ ক্লিনিক ‘বেবি নার্সিং হোম’ এর মালিক আহসানুল হক কালুর ছোট ছেলে খালিদ হাসান আর্জু উপজেলা বাজারে প্রকাশ্য জনসমুখে সাংবাদিক মিজানুর রহমান রিপনের উপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট ও লাঞ্ছিত করে। তারাগুনিয়া ক্লিনিকে অপারেশনকারী ডাক্তার অনুমোদহীন অবৈধ ক্লিনিক বেবি নার্সিং হোমেও অপারেশন করিয়ে থাকেন। এরই সূত্র ধরে সাংবাদিকের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলার শিকার মিজানুর রহমান রিপন জানান, গতকাল (রোববার) সন্ধ্যার দিকে আমি উপজেলা সবজি বাজারে বাড়ির দৈনন্দিন বাজার করছিলাম। এসময় উপজেলা বাজারের বেবী ক্লিনিক মালিকের ছেলে খালিদ হাসান আর্জু আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা ও মারপিট করার সময় সে আমাকে বলে ‘আমার হাসপাতালে যে ডাক্তার আসে সেই ডাক্তারের নামে তোরা নিউজ করেছিস’ এই বলে আমার উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এ ঘটনায় আমি আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দিয়েছি।
সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে এটি কখনই কাম্য নয়। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। আর এজন্য আমাদের যা করনীয় তাই করবো।
সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উল্লেখ্য, সাংবাদিকের উপর হামলাকারী খালিদ হাসান আর্জু’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কর্মকান্ডসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।