মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরার অভিযোগে ৬টি ফিশিং ট্রলারসহ ১০৪ জন জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
সোমবার বিকেলে গভীর সমুদ্র থেকে তাদের আটক করা হয় এবং মঙ্গলবার বিকেলে মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে আনা হয়।
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, সেটি অমান্য করেই এসব জেলে গভীর সাগরে ইলিশ আহরণ করছিলেন। নৌবাহিনীর টহলরত সদস্যরা অভিযানে অংশ নিয়ে ট্রলারগুলো আটক করে এবং সেগুলো দিগরাজ নৌঘাঁটিতে নিয়ে আসে।
আটক জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি বরগুনা, পাথরঘাটা, পটুয়াখালী, রাঙ্গাবালী ও মহিপুর এলাকায়। ট্রলারগুলোতে প্রায় ৫ মেট্রিক টন মাছ পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগই ইলিশ। জব্দ করা মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, ‘আটক জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হবে, তবে ট্রলার মালিকদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া চলছে।’
দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান এই নিষেধাজ্ঞা ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময়ে সাগর, নদী এবং উপকূলীয় এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও মজুত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমা ঘিরে ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুমে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়, যাতে প্রজননকালীন ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে—বরিশাল, চাঁদপুর ও মেঘনা নদী এলাকায়—নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অনেক জেলে আটক, জরিমানা ও স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। নৌবাহিনীর এই অভিযান সেই ধারাবাহিক তৎপরতারই অংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী কয়েকজন ভারতীয় জেলে ও তাদের ট্রলারও আটক করেছে নৌবাহিনী, যা সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় চলমান নজরদারির প্রতিফলন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।