বাংলাদেশ পলিটিক্যাল থিংকারসের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর নবী গতকাল সোমবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এই দেশের উপর চেপে বসা ফ্যাসিবাদের অবসান হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হঠাতে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ ও অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এতো রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আর কোন স্বৈরাচারের জন্ম হোক দেশের মানুষ তা প্রত্যাশা করে না।

তিনি বলেন, যুগে যুগে দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে স্বৈরশাসক হঠালেও বার বার স্বৈরশাসক এই দেশের মানুষকে শাসন করেছে। ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষ বৈষম্য নিরসনের আশায় ছিলো। কিন্তু সময়ের আবর্তনে আমরা দেখলাম শেখ মুজিব নিজেই এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা জারি করে নিজেই স্বৈরশাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেখ মুজিবের দুঃশাসনকে যে সব দেশপ্রেমিক সেনা বাহিনী হটিয়েছে তাদেরকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি বরং ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। ৯০ সালে আবার এরশাদের স্বৈরশাসন থেকে ছাত্র জনতা জীবন দিয়ে এই দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসে। তখন তিন জোটের রুপরেখা লিখিত হলেও রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে যায়। যার ফলে আবারো ২০০৯ সালে হাসিনার স্বৈরশাসন শুরু হয়। তাই এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হোক সেটা জাতি দেখতে চায় না।

তিনি বলেন, আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এ সরকার কোন দলীয় সরকার নয়। জুলাই যোদ্ধা ও দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। তাই তারা কোন দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার সুযোগ নেই।

যদি দায়বদ্ধতা থেকে থাকে, সেটা হচ্ছে দেশের মানুষের কাছে তারা দায়বদ্ধ। সুতরাং রাজনৈতিক দলের কাছে নতজানু হয়ে দেশের স্বার্থ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। তাই অনতিবিলম্বে জুলাই সনদের আইনিভিত্তি প্রদানে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ও সংস্কার কমিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।