মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: দেশে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন গাড়ির একটি বড় অংশ বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে আমদানিকৃত রিকন্ডিশনড গাড়ির প্রায় ৫৫ থেকে ৭০ শতাংশই এই বন্দরের মাধ্যমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে আমদানিকৃত গাড়ির সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৫৭৯টি, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই আমদানি হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি গাড়ি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গাড়ি আমদানির হার আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মোংলা বন্দরের আধুনিক অবকাঠামো, পদ্মা সেতুর সংযোগ, ও উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। ফলে, আমদানিকারকরা এখন চট্টগ্রামের পরিবর্তে ক্রমশ মোংলার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। বিশেষ করে, ঢাকা থেকে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বের কারণে পরিবহন ব্যয় ও সময়—উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোংলা বন্দরে গাড়ি আমদানিতে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও এটি দেশের রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৪৭৪টি গাড়ি আমদানি হলেও, পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৪৮৪টিতে।

তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ১৩ হাজার ৫৭৬টিতে নেমে আসে। পরবর্তী বছর কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়ে ১৫ হাজার ৩৪০টি গাড়ি আমদানি হয়।

আমদানিকারক ও কাস্টমস এজেন্ট পংকজ রায় সুমন বলেন, “যদি সরকার শুল্কহার কিছুটা কমায়, তাহলে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।”

একইভাবে, বারভিডা-এর মহাসচিব রিয়াজ রহমান জানান, জাপানি রিকন্ডিশনড গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা সহজ করা হলে আমদানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে দেশের রিকন্ডিশনড গাড়ির প্রায় ৫৫ শতাংশই মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে, ফলে সময় ও ব্যয় দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আগামী অর্থবছরে গাড়ি আমদানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এর মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, এবং সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে মোংলা বন্দর এখন দেশের রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।