সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খালের ইজারা বাতিল, দখলমুক্ত ও খাল পুনঃখননের দাবিতে ৬ ইউনিয়নের তিন শতাধিক স্থানীয় মানুষের মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে অংশ নেয় রমজাননগর ইউনিয়নের আটকাঠা খাল, কৈখালী ইউনিয়নের বড় মৌ কাঠলা খাল, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের চরারচক খাল, ভুরুলিয়া ইউনিয়নের নিমতলার খাল, আটুলিয়া ইউনিয়নের নগরকাঠি খাল এবং বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের শিমনখালী খালের ভুক্তভোগী স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সিডিও ইয়ুথ টিম, উপজেলা এডভোকেসি কমিটি এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

জিআইএফআরসিআর প্রকল্পের সহযোগিতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের বক্তব্যে বলেন, “আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে এবং অপরিকল্পিতভাবে, জনস্বার্থ উপেক্ষা করে স্থানীয় তহসিল অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা খালের শ্রেণি পরিবর্তন করে বিলের ফসলি জমির ভেতরের ও বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের খাল বন্দোবস্ত দেওয়ার ফলে প্রায় প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

খাল ভরাট ও অবৈধভাবে দখল করে বাঁধ দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে অত্র এলাকার কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, বসতবাড়ির পুকুরের মাছ, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া এলাকার মাটির গভীরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে বছরে একটি মাত্র ফসল আমন ধান চাষ করা হয়। একমাত্র মিষ্টি পানির আধার এসব খাল ভরাট ও দখল করায় এবারের বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকরা ক্ষতি ও ভোগান্তিতে পড়েছে।”

রমজাননগর ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “পাতড়াখোলা ও চাঁদখালী গ্রামের পাশে ধলের বিলের খালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৫০০০ বিঘা জমির আমন ধানের বীজতলা দুইবার সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিডিও ইয়ুথ টিমের সিনিয়র ভলেন্টিয়ার হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনির, রিপোর্টার্স ইউনিটি শ্যামনগরের সভাপতি ও সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান, সিনিয়র সাংবাদিক আফজালুর রহমান, সিএনআরএস এর প্রকল্প সমন্বয়কারী নাজিম আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন কর্মী মমিনুর রহমান, সিনিয়র ভলেন্টিয়ার আনিসুর রহমান মিলন, ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ, সোহরাব হোসেন, সিডিও ইয়ুথ টিম কৈখালী ইউনিটের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি, আটুলিয়া ইউনিটের সজিব হোসেন রনি, সরকারি মহসিন কলেজ ইউনিটের নুহা ইসলামসহ অনেকে।

এসময় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্যবৃন্দ, উপজেলা এডভোকেসি কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, “আমরা আশাবাদী আপনার কার্যকর পদক্ষেপে এলাকার কৃষকরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দখল থেকে মুক্ত হয়ে এলাকার প্রায় সকল মানুষ খালের পানি ব্যবহার করে তাদের চাষাবাদ ও জীবনযাপন অনেক সহজ হবে।”