গত ২৪ জুন দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত ‘এখনো ফ্যাসিবাদের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রায়ত্ত কর্মসংস্থান ব্যাংক’ নামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা মহাবিভাগ) মো: আমিরুল ইসলাম। প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেছেন, আমার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ছাত্র ও পেশাগত জীবনে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম না। ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি গঠনের সময় আমি মাঠে কর্মরত ছিলাম এবং ২০ বছর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে এসেছি। বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিদ্যমান অনুমোদিত কমিটিতে আমার নাম না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠাতা কমিটির নির্বাহী সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেলের বিপরীতে নির্বাচন করে অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। সভাপতি হবার কারণে আমি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সততা, নিষ্ঠা, এনএসআই রিপোর্ট এবং কর্মে সফলতার কারণে আমাকে জিএম পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে’। নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অফিসার্স এসোসিয়েশনের মেয়াদ শেষ হলেও দেশের পটপরিবর্তন ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। এছাড়া সম্মানিত রিপোর্টারকে সময় না দেয়ার বিষয়টিও সত্য নয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় বলেছি রোববার আসতে। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারবো না’।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা মহাবিভাগ) মো: আমিরুল ইসলামকে ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির নির্বাহী সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বক্তব্যটি সঠিক। তিনি প্রতিবাদ লিপির সাথে প্রতিষ্ঠাতা কমিটির যে তালিকা (সংযুক্ত) দিয়েছেন সেটি ২০১৯ সালের। অথচ বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠিত হয় ২০১৫ সালে। ২০১৫ সালের প্রতিষ্ঠাতা কমিটিতে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৬০ নম্বর সদস্য ছিলেন। এই কমিটির নির্বাহী সদস্য সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। সেই কমিটির স্বপক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের সাক্ষর ও সীল মোহর রয়েছে। এই প্রতিবেদকের কাছে সেই কপি রয়েছে। এছাড়া তিনি যে কমিটির তালিকা দিয়েছেন সেখানেও বলা আছে, ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠিত হয়েছে ২০১৫ সালে এবং সদস্য সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। সেই তালিকায় তিনি ৬০ নম্বরে রয়েছেন। এখানে প্রতিবেদক কোনো অসত্য, মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন নি। প্রতিবেদনের কোথাও তিনি আওয়ামী ফোরামের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছেন বলা হয়নি। বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী ফোরামের সমর্থন নিয়েছেন। প্রতিবেদনে তার আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি বলা হলেও তিনি এই অভিযোগের কোনো জবাব দেননি। অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনের বিষয়টিতে তার প্রভাবের বিষয় তিনি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের পটপরিবর্তনের কারণে ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। কিন্তু তিনি নির্বাচন আয়োজন করতে বলেছেন এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। এছাড়া তার বক্তব্য নেয়ার বিষয়ে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।