আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা : পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বান্দরবানের আলীকদমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা ধ্বংসকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড রাস্তার মাথা সংলগ্ন বিটিসি বেলাল উদ্দীন ও সিরাজুল ইসলামের নার্সারীতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, আলীকদম প্রেস ক্লাবের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো, আলীকদম রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জয়দেব রানাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা জানান, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হওয়ায় এসব গাছের চারা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আজ দুটি নার্সারীতে ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নার্সারি মালিকদের প্রতিটি ধ্বংসকৃত চারার বিপরীতে ৪ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। পুরো আলীকদম উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার চারা ধ্বংস করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি চারাও ধ্বংস করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সারাদেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি করায় সরকারি উদ্যোগে এসব চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ নার্সারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চারা ধ্বংস করছে এবং নার্সারি মালিকদের কাছ থেকে আর এসব চারা উৎপাদন না করার অঙ্গীকার নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আগ্রাসী এসব প্রজাতির বদলে নারিকেল, আম, কাঁঠাল, নিম, তালসহ বিভিন্ন দেশি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ মে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা তৈরি, রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।