নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জে জেলার ভৈরব উপজেলায় দেহব্যবসায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্র মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলায় দুই নারীসহ তিনজনকে ১৭ বছর পর মৃত্যুদ-ের সাজা দিয়েছে কিশোরগঞ্জের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়া প্রত্যেক আসামীকে ১০ হাজার টাকা অর্থ দ-ে দন্ডিত করা হয়। কিশোরগঞ্জের ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এর বিচারক ফাতেমা জাহান স্বর্ণা এ আদেশ দেন। প্রদত্ত সাজা ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করার নির্দেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দৌলতদিয়া গ্রামের মো. কাইয়ুম সরকারের স্ত্রী মোছাঃ সেলিনা বেগম ওরফে শিউলী (২৫) একই জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে শোভা প্রকাশ মেঘলা (২০) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপনর উত্তরপাড়ার মৃত সাহিল উদ্দিন এর ছেলে মো. সুমন (২২)। রায় ঘোষণা করার সময় আসামী সেলিনা ছাড়া বাকি দুজন আসামী পলাতক ছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার তারাকান্দি মধ্যপাড়ার মো. সামছুদ্দিন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী ভৈরব উপজেলার হাজী হাসমত কলেজে হোস্টেলে থেকে বিএসসি প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করতেন। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯ টার দিকে মোহাম্মদ আলী ও তার বন্ধু মুরাদ ভৈরব হাজী হাসমত কলেজ গেটের ভেতরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা দুজনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় অন্য ছাত্ররা তাদের উদ্ধার করে ভৈরবের মাতৃকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত মুরাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।
এ ঘটনায় পরদিন ৭ই জানুয়ারি ২০০৮ নিহত মোহাম্মদ আলীর পিতা শামসউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসমীদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার এসআই আব্দুল আজিজ ২০০৮ সালের ৩০ মে মো. সুমন মিয়া, সেলিনা বেগম, শোভা প্রকাশ ও মহরম আলী এ চারজনকে আসামী করে অভিযোগ পত্র আদালতে প্রদান করেন।আসামীরা স্বীকারোক্তিতে জানান সেলিনা বেগম ও শোভা প্রকাশ দেহ ব্যবসায় জড়িত ছিল। নিহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী তাদের অনৈতিক কাজে বাধা দিত। সেলিনা বেগম ও শোভা প্রকাশ তার ও মহরম আলীর শরনাপন্ন হয়। এর জের ধরে (০৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত নয়টার দিকে হাজী আসমত কলেজের ভিতর আটকে মোহাম্মদ আলী ও তার বন্ধু মুরাদকে ধারালো অস্ত্রের উপুর্যপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি শফিউল জামান ভূঁইয়া।
নীলফামারীতে পুলিশি হয়রানির শিকার একটি পরিবার
নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীর ডিমলায় আসামী ধরার নামে পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন একটি পরিবার। আসামীকে না পেয়ে ওই পরিবারের নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ডিআইজি বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। নুতন পুলিশ সুপার যোগদানের পর পুলিশের এ আগ্রাসী কর্মকান্ডে আতি ঙ্কত হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারন মানুষ।
জেলার ডিমলা উপজেলার রামডাঙ্গা (মুন্সি পাড়া) এলাকার মহির উদ্দিন ওরফে লাল বাউ এর স্ত্রী মঞ্জিনা বেগম (৪৫) এর ডিআইজি বরাবর দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, তার পুত্রবধূ মীম আক্তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী সহ ৬ জনের নামে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-০৫, তাং-০৫/০৫/২০২৫খ্রিঃ।
উক্ত মামলার তদন্তকারী অফিসার নিযুক্ত হন ডিমলা থানার এস.আই হাবিবুর রহমান। যার বিপি-৯১১০১৪০৭৯৫। ওই মামলায় অভিযোগকারীর স্বামী বাদে সকলেই আদালত কতৃক জামিনে রয়েছে। ঘটনার দিন ১২/০৫/২০২৫ইং তারিখ তার কন্যা লাইজু আক্তারকে বাড়ীতে রেখে পরিবারের সকল সদস্য ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে যায়।
এরই মধ্যে ডিমলা থানার এস.আই হাবিবুর রহমান ও এ.এস.আই রাজু আহম্মেদ, যার বিপি-৮৬০৬১৭১০৪৫ এদের মধ্যে একজন পুলিশের পোষাক পরে ও অপরজন সাদা পোষাকে দুপুরের দিকে তাদের বাড়ীতে বসত ঘর তল্লাশীর করার নামে দুই থাকার ঘরে বিছানা পত্র সহ সকল আসবাবপত্র খোলাখুলি করিয়া ও তছনছ করে এবং বিছানার নিচে থাকা গরু বিক্রির এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত কানের চার আনা ওজনের স্বর্ণের এক জোড়া দুল উক্ত দুই পুলিশ অফিসার তল্লাশীর নামে বের করে নিয়ে যায়। এ সময় তার মেয়ে লাইজু আক্তার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করাকালীন সময়ে উক্ত পুলিশ অফিসারদ্বয় লাইজুর মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে মর্মে টানা হেচড়া করতে থাকে। পরবর্তীতে লাইজু উক্ত ২ পুলিশকে অনুনয় বিনয় করিয়া ছাড়া পাইলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, টাকা স্বর্ণের দুল নিয়ে যায়।
মামলার বাদীকে সাথে নিয়ে তল্লাশীর নামে তাদের বাড়ী টিন, বেড়া ও বাঁশ লুট করে নিয়ে যায়। ওই পুলিশ অফিসারগন প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ বে-আইনী তান্ডব চালায় বলে অভিযোগে প্রকাশ। ওই পুলিশ অফিসারগনের মিথ্যা মামলায় ফাসানোর হুমকিতে অসহায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা বিষয়টির গুরত্ব বিবেচনা করে যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ অফিসারদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায় নি। এ ব্যাপারে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলে এলাহী জানান, ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই দুই পুলিশ অফিসার খুবই ভদ্র। এ ব্যাপারে নীলফামারী পুলিশ সুপার এ.এফ.এম তারিক হোসেন খান জানান, অভিযোগ এলে তদন্তের ব্যাবস্থা করা হবে।