স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
বর্ষা ও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনঃখনন ও ড্রেন পরিষ্কারে অভিযান পরিচালনা করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি)।
জিসিসির অঞ্চল-০৪ (জয়দেবপুর) এলাকায় ৩৫টি স্থানে ড্রেন ও আরসিসি নালার সংস্কার এবং পরিষ্কারকরণ কাজ সম্পন্ন বা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিএডিসি নন্দিতা সিনেমা হল থেকে বিএমটিএফ গেট হয়ে সেলিনা ভিলা পর্যন্ত ড্রেনের দুই পাশ পরিষ্কার, ছায়ানীড় প্রকল্প হয়ে খালপাড় পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার, মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার, জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষীপুরা, শিববাড়ি মোড় থেকে চিলাইখাল, গাজীপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান পর্যন্ত মাস্টার ড্রেন পরিষ্কার, একইসঙ্গে নগর ভবনের অভ্যন্তরীণ ড্রেন ও মাধববাড়ি, জেলখানা সড়ক, শ্মশান মোড়, কলাবাগান, শাহাপাড়া এবং তিন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জিসিসি প্রশাসক সরফ উদ্দিন আহমেদ প্রায় তিন কিলোমিটার কাদামাটিতে পায়ে হেঁটে মহানগরের গাছা খাল পরিদর্শন করেন, তাঁর এই পরিদর্শন শুধু প্রকল্প তদারকি নয়, এটি শহর রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নগর কর্মকর্তাদের মাঝে দায়িত্ববোধ এবং নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
প্রশাসক সরফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গাজীপুরের খালগুলো একসময় ছিল প্রাণের প্রতীক, এখন এগুলো দখল ও দূষণে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, তাই আমি নিজে নেমে পায়ে হেঁটে পরিস্থিতি দেখেছি, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—গাজীপুরকে জলাবদ্ধতা, দখল ও দূষণমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরিত করা, তিনি আরও বলেন, “এই অভিযানে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে, নগরকে রক্ষা করতে হলে, শুধু প্রশাসন নয়—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
এই উদ্যোগ নগরজীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে যেখানে আগে রাস্তাঘাট তলিয়ে যেত, সেখানে এখন বৃষ্টির পর অল্প সময়েই পানি সরে যাচ্ছে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিতে এই অভিযান দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে, নগরবাসী বলছেন, “এটা আমাদের চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন, এতদিন শুধু শুনতাম পরিকল্পনার কথা, এবার বাস্তবায়ন চোখে দেখছি।
পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ অভিযানে একাত্মতা ঘোষণা করেছে, তারা মাঠে নেমে খাল ও খোলা জায়গা দখলমুক্ত করার দাবিও তুলছে, প্রশাসকের নেতৃত্বে এ ধরনের ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে, যার ফলে পুরো নগরজুড়ে এক ধরনের সম্মিলিত সচেতনতা তৈরি হয়েছে।