মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি, ময়মনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, গত ১১ আগস্ট ফাহিম হত্যা মামলায় এখনও আসামি ধরা না পড়ায় মুক্তাগাছার ওসি ও ময়নমনসিংহের এসপি চুড়ি পড়ে বসে থাকতে বললেন। তিনি ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার সাথে সাক্ষাত করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছি। খুন হওয়ার পর যে ওসি আসামিকে ধরতে পারে না তার সাথে দেখা করে লাভ কি?

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলতে চাই মুক্তাগাছার ওসি ও ময়নমনসিংহের এসপি সাহেবের জন্য চুড়ি পাঠিয়ে দেন তারা চুড়ি পড়ে বসে থাকুক। খুনিদেরকে ধরতে পারেন না এটা ছাড়া আপনাদের পুরষ্কার দেয়ার কোন কারণ নাই। রাষ্ট্রীয় শক্তি আপনার হাতে, বন্দুক আপনার হাতে খুনিদের ধরতে পারেন না তাহলে কি আপনি খুনিদের বন্ধু? যদি তাই হয় খুনিদের বন্ধুদের বাংলাদেশের মানুষ কোন দিন ক্ষামা করবে না। গত শুক্রবার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী মুক্তাগাছার কৃতি সন্তান শহীদ সামিদসহ অন্যান্য শহীদ আহত-পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খুনি সে যে দলেরই হউক, রাজনৈতিক শেল্টার প্রাপ্ত হউক না কেন? দেশে আইন আছে, আদালত আছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে হবে। ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদের বিচার হবে এবং সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে হবে। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারেন, আগামী দিনে আপনাদের কাউকে হত্যা করা হয় তাহলে তার প্রতিবাদ করার কেউ থাকবে না।

ফাহিম হত্যার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন মানববন্ধনে এসে কথা দিয়েছিলেন খুনিদেরকে তারা গ্রেফতার করবেন। ১১ তারিখ থেকে আজ ২৯ তারিখ পর্যন্ত পার হল আপনার কয়জনকে গ্রেফতার করেছেন। আসামিরা কোথায় আছে? মাটির নিচে চলে যায়নি তারা দেশে আছে? দেশে থাকতে যে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারে না, সেই পুলিশের থাকার কোন অধিকার নেই, যে প্রশাসন গ্রেফতার করতে পারে না সেই প্রশাসন থাকার কোন দরকার নেই। আপনারা ভেবেছেন খুনিদের পাহাড়া দিয়ে লুকিয়ে রাখবেন, কথা দিয়ে গেলাম হত্যাকারী যেই হউক, আমি একজন ল’ইয়ার হিসেবে এই খুনির বিরুদ্ধে দাড়াবো ইনশাল্লাহ।

আজকে বাংলাদেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ন্যায়পরায়ণ শাসন, ন্যায় বিচার চাইলে কোন নেতা নেত্রী, ব্যক্তি, দলের আইন প্রতিষ্ঠা করলে হবে না, ইসলামের আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যদি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ নিরাপত্তার দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আমাদের মাঝে মাঝে হুমকি দেয় আমাদের বন্ধুরা। হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। হুমকি দেয়া কোন বীরত্বের লক্ষণ নয়, হুমকি দেয় কাপুরুষরা। আপনারা কাকে মারতে চাচ্ছেন, আমরা ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া লোক। আমরা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীরর উত্তরসুরী। যিনি হুমকি দিতে আসবে তার বিরুদ্ধে আইনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আগামীদিনে উপজেলার উন্নয়ন চাইলে যিনি আল্লাহ ছাড়া অন্যকাউকে ভয় পায় না এমন লোককে এমপি বানাতে হবে। আল্লাহর ভয় যার মানে আছে অন্যায়কারী যত বড় ব্যক্তি হাউক না কেন তার আবদার পূরণ করা হবে না। তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বালেন, এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে এমপি বানাবেন। মুক্তাগাছায় দাঁড়িপাল্লা বিপুল ভোটে জয়ী হবে তিনি আশাব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এই এলাকায় জামায়াতের এমপি হলে এলাকার একজন যুবকও বেকার থাকবে না, তালিকা করে প্রত্যেকে চাকরি দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, এই এলাকায় ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে এখানেই কর্ম দেয়া হবে। এখানে চুরি, দুর্নীতি, ঘোষ থাকবে না। এখানে উৎপাদিত প্রোডাক্টের মধ্যে কোন ভেজাল থাকবে না। সারাবিশে^ এর মার্কেট তৈরি হয়ে যাবে। এভাবে সারা বাংলাদেশের একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে পরিণত হবে মুক্তাগাছা, ইনশাল্লাহুল আযিয। এ উপজেলায় যত মাদরাসা, স্কুল, এবতেদায়ী সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের অনুমোদনের আওতায় এনে শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা আমরা করব। চাঁদা তুলে কোন কাজ করতে হবে না। চাঁদা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

শুক্রবার বাদ আছর মুক্তাগাছা পদুরবাড়ী স্কুল মাঠে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তাগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মোঃ শামছুল হক, পৌর জামায়াতের আমীর আফতাবুর রহমান আকন্দ, মুক্তাগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ মোজাহিদ, উপজেলা জামায়াতের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মাওলানা আজহারুল ইসলাম শাহীন।

শহীদ সামিদের পিতা মোঃ ফরহাদ মিয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মুক্তাগাছা উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুল হক শরীফ, মুক্তাগাছা উপজেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোস্তফা রায়হান, পৌর জামায়তের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান, জামায়াত নেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।