মো. লাভলু শেখ, লালমনিরহাট : কমছে পানি, ভাঙছে ধরলা নদী। ধরলা নদীর ভাঙনে লালমনিরহাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ফলিমারীর চর। ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে গৃহ ও কর্মহীন হয়ে পড়ছে প্রায় ২’শত পরিবার। তবে ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবী চরবাসীর।

জানা গেছে, ধরলা একটি আন্তঃসীমান্তনদী। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ধরলা নদী লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আবার পাটগ্রাম পুলিশ স্টেশনের কাছে নদীটি পুনরায় ভারতে ঢুকে পড়ে। দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের সর্বশেষ ভূখন্ডে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের উত্তর পূর্বদিক দিয়ে রাক্ষুসী ধরলা নদী প্রবাহিত।

স্থানীয় চরবাসী জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধরলার বুকে ফলিমারীর চর। চরটিতে প্রায় ৩৫০টি পরিবারের বসবাস ছিল। এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েক বছরের রাক্ষুসী ধরলা নদীর ভাঙনের শিকার ফলিমারীর চর। ফলে নদী ভাঙনে ২শত পরিবারের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, ক্লিনিক, কাঁচা রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভাট, দোকানপাট, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সহপুরো চরটির তিনভাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অসহায় পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে গৃহহীন হয়ে ঠাঁই নিয়েছে অন্যত্রে।ফলিমারীর চরে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। নৌকায় একমাত্র ভরসা। এক সময়ের বিশাল ফলিমারীর চরটিকে চারিদিকে ঘিরে ফেলেছে রাক্ষুসী ধরলা নদী। প্রতি বছরে জড়িয়ে ধরে গিলে খাচ্ছে চরের জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে চরের অবশিষ্ট ১৫০টি পরিবার, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুজিব কেল্লা, আশ্রয়ণ কেন্দ্র, আবাদি জমি, গাছপালা ও মসজিদ রয়েছে।

তাই দ্রুত স্থায়ী ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কালক্রমে পুরো ফলিমারীর চরটিই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদী ভাঙন রোধ ও চরটি রক্ষায় সরকারের কাছে দাবি জানান স্থানীয় চরের বাসীন্দারা।

ফলিমারী চরের বাসীন্দা আছর উদ্দিন (৫৫) বলেন, ধরলায় পানি বাড়লেও ভাঙে, কমলেও ভাঙে।

ওই চরের বাসীন্দা লুৎফর রহমান (৪৫) বলেন, আমাদের ফলিমারী চরের অবস্থা ভাল নয়। আমাদের অনেক আবাদি জমি ছিল। এখন বাড়িভিটার জায়গাটুকু নেই। ধরলা ভাঙনে ৫/৭ বার বাড়ি সরিয়ে অন্যের জমিতে বাড়ি করেছি। ওই ধরলাই আমার বাবা-মা’র কবর সহ আবাদি জমি ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব।

মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, শুধু ফলিমারীর চর নয়। আমার ইউনিয়নের ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন স্থানে ধরলা নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি বার বার লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করার পরেও ভাঙন প্রতিরোধে তারা কোন আজও পদক্ষেপ নেয়নি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ধরলা ভাঙনের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। কিছু স্থানে কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন আর কোনো ব্যাগ মজুত নেই। নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।