সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্দার মানিক এলাকা থেকে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছে ১০ জন জেলে ও তাদের ব্যবহৃত একটি নৌকা।
শনিবার বিকালে মৎস্য প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধপথে মাছ ধরতে ও শুঁটকি তৈরি করতে গিয়ে এই জেলেরা অপহরণের শিকার হন।
অপহৃতদের প্রত্যেকের মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করছে ‘করিম শরিফ’ নামের একটি দস্যু চক্র।
মোংলার বকুলতলা গ্রামের জেলে অবজাল জানান, তিনিও একইভাবে অপহৃত হয়েছিলেন এবং টানা ৯ দিন বনদস্যুদের বন্দিত্বে থাকার পর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার বিকালে মুক্তি পান। সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের জেলে আলম জানান, তার সহযোগী জেলেরা এখনও দস্যুদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে কয়রা উপজেলার রাসেল নামের এক জেলেও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছের প্রজনন মৌসুমে সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও সংঘবদ্ধ কিছু দুর্বৃত্তচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বনের নদী-খালগুলোতে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ আহরণ এবং কাঠ পুড়িয়ে অবৈধভাবে শুঁটকি উৎপাদনের মতো কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা।
বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিম গত শনিবার দুপুর ২টার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া সংলগ্ন বড় ডাবুর খালের মুখ থেকে অভিযান চালিয়ে ১৮ বস্তা চিংড়ি শুঁটকিসহ দুটি নৌকা জব্দ করে। প্রতিটি বস্তায় ছিল প্রায় ২৫ কেজি শুঁটকি এবং এসবের বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলে, হরিণ শিকারি এবং চোরাকারবারিদের দমন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।