মো. আবু ইউসুফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রহিমপুর জামিয়া হেজাজিয়া দারুল আরকাম-রহিমপুর হেজাজিয়া এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসায় পবিত্র হিফজুল কুরআন সফলভাবে সম্পন্নকারী ২৬ জন কৃতী ছাত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'দস্তারবন্দী' বা সম্মানসূচক পাগড়ি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এতিমখানা মাঠে আয়োজিত এক মনোজ্ঞ ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম পার্টোয়ারী। জাতীয় সমাজকল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানে, হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রদের মাথায় সম্মানসূচক পাগড়ি পরিয়ে দেন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা মাহবুবে এলাহী। পাগড়ি পরানোর দৃশ্য উপস্থিত সকলের মধ্যে এক বিশেষ আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এতিমখানার মহা-পরিচালক কাজী মোহাম্মদ লোকমানের পরিচালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কবির আহামেদ, এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতার নাতি ব্যারিস্টার সাজ্জাদ আলী চৌধুরী, মেজর অবসরপ্রাপ্ত একেএম হাফিজ আহমেদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান হেলালী, মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, মাওলানা আমির হোসেনসহ আরও অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, কুরআনের হাফেজরা সমাজের অহংকার। তারা ২৬ জন ছাত্রের এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং মাদরাসার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা হাফেজ ছাত্রদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের নিজ নিজ এলাকায় ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও কুরআনের আলো প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য জোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই আয়োজনটি মুরাদনগর উপজেলায় দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে রহিমপুর হেজাজিয়া মাদরাসার অবদানকে আরও একবার সু-প্রতিষ্ঠিত করল।