স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
পবিত্র কোরবানির ঈদের ছুটিতেও গাজীপুর মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সংরক্ষণে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের পরদিন, রোববার (৮ জুন), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন স্পটে পরিদর্শন ও তদারকি করেন খাল পুনঃখনন, বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম।
সরেজমিন পরিদর্শন: টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা
সকাল ১০টায় প্রশাসক পরিদর্শন শুরু করেন টঙ্গী এলাকা থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে গাজীপুরা বাশপট্টিতে দখলমুক্তকৃত নালা ও খাল, বনমালা রোডের সম্প্রসারণকাজ, ভোগড়া বাইপাস এলাকায় মোঘর খালের খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম এবং সর্বশেষ চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা সরেজমিনে পর্যেবক্ষণ করেন।
চৌরাস্তা এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনগুলোতে পুনরায় পানি চলাচল নিশ্চিত করতে ভেকু দিয়ে স্লাব ভেঙে বর্জ্য সরানোর কাজ চলছিল। প্রশাসক সেখানে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করেন এবং উপস্থিত জনসাধারণকে সচেতনতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "আমরা ড্রেন পরিস্কার করছি, কিন্তু জনগণের সহায়তা না পেলে এটি টেকসই হবে না। ব্যবসায়ীরা যেন আর ড্রেনে অপচনশীল ময়লা না ফেলে, সেজন্য এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে।"
খাল দখলমুক্ত ও খনন কাজেও নজরদারিঃ
বহু বছর ধরে দখল হয়ে থাকা চৌরাস্তা এলাকার পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের নালাগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেই দখলমুক্ত করে খনন করেছে সিটি কর্পোরেশন। প্রশাসক নিজেই খালের পাশে গিয়ে দেখেন সেই অগ্রগতি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যেন খাল বা ড্রেনে অপচনশীল দ্রব্য জমে আবারও পানি প্রবাহে বাধা না সৃষ্টি হয়।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ: ভবিষ্যৎ কেন্দ্রঃ
চান্দনা চৌরাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত পরিত্যক্ত বাসন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও পরিদর্শন করেন প্রশাসক। তিনি জানান, সেখানে একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নগর পরিচালনায় গতি আনবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তিনদিনব্যাপী বিশেষ উদ্যোগঃ
সিটি কর্পোরেশনের সূত্র জানায়, ঈদের দিন দুপুর থেকেই তিনদিনব্যাপী বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা টিম গঠন করে কাজ চালানো হয়। পাশাপাশি, মহাসড়ক ও অন্যান্য প্রধান সড়কে যাতে কোরবানির বর্জ্য ও পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না করে, তার জন্য খাল ও ড্রেন পুনঃখনন ও মেরামতের কার্যক্রম ঈদের দিনেও চলমান থাকে।
এসময় প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন
জিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোতাসিম বিল্লাহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
নাগরিকদের প্রশংসা ও সহযোগিতার আহ্বানঃ
জিসিসির এই মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, "এ ধরনের পদক্ষেপ গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে সহায়ক হবে।" প্রশাসকও বারবার নাগরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।