মু আবু সুফিয়ান, বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালী-বাউফল আঞ্চলিক সড়কের কালাইয়া ও নওমালা ভাঙা ব্রিজ থেকে শৌলা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক গর্ত। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে নালা কিংবা পুকুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের পটুয়াখালী জেলা সদরের সাথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক। এছাড়া দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার ঢাকাগামী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন বগা হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলাচল করে। প্রতিদিনই অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি, বাস, ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে।
কিন্তু বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই যানবাহন মাঝপথে আটকে যায়। যাত্রীদের বাস থেকে নেমে গর্ত পেরিয়ে আবার উঠতে হয়। সম্প্রতি মালবাহী ট্রাক, ও চেয়ারম্যান পরিবহনের বাসসহ একাধিক যানবাহন আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোলাবুনিয়া ও ছিদ্দিকের বাজারে একই বাস দুইবার আটকে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় অনেক চালক বিকল্প পথে ৩০-৪০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অটো রিক্সা মালবাহী ট্রাক, অটো বাইক প্রায়ই দুর্ঘটনা স্বীকার হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে গিয়ে অনেক যাত্রীদের হাত-পা ভেঙে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে আসুরীহাট বাজার এলাকার একটি বড় গর্তে পানি জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়রা সেখানে নৌকা ভাসিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।
যাত্রী নাসরিন জাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা যেতে পথে তিনবার বাস থেকে নেমেছি। এখন আবার আটকে আছি। কখন পৌঁছাবো, কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্তত ইট ফেলে গর্ত ভরাট করলেও দুর্ঘটনা কিছুটা কমতো।”
অটোচালক মমিন হাওলাদার জানান, নিজস্ব অর্থায়নে অন্তত ১০টির বেশি গর্ত ইট দিয়ে ভরাট করেছেন তারা। কিন্তু বর্ষায় নতুন গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে, আর পুরনো ভরাট গর্তের ইট উঠে যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক বছর আগে এলজিইডি তত্ত্বাবধানে সড়কটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে কিছুদিনের মধ্যেই পিচ উঠে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, এই সড়কটি এলজিইডি থেকে রোডস অ্যান্ড হাইওয়েতে হস্তান্তর করে জরুরি ভিত্তিতে পুনর্র্নিমাণ করতে হবে। নইলে অচিরেই এ সড়কে স্থায়ীভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, “ওই রাস্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।