এম, এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভোটার তালিকা থেকে বঞ্চিত প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। সরে জমিনে জানা যায়, উপজেলার ১১নং সোনাতনী ইউনিয়নের একসময়ের প্রাচীন গ্রাম পাচ বাঙালা ১৯৮৬ সালে যমুনা নদীগর্ভে বিলীণ হয়ে যায়। এরপর থেকেই মুলত অস্তিত্ব হারায় পাচ বাঙালা গ্রাম। এরপর বাসিন্দারা বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় বসতি গড়ে। বিগত ১ যুগ ধরে যমুনা গর্ভে চর জেগে উঠায় জনবসতি স্থাপন করে পাচ বাঙালার মানুষ। এতে ধীরে ধীরে জনসংখ্যা দাড়ায় প্রায় ৫ হাজার। সরেজমিনে পাচ বাঙালার অস্তিত্ব জেগে উঠলেও ৬নং ওয়ার্ডের পাচ বাংলা গ্রামের কোড নং না থাকায় ভোটার তালিকায় গ্রামটির কোন অসিস্ত¡ নেই। ফলে এ গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তি আগ বাঙালার নামে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি হয়েছে। আর ৫ হাজার মানুষের আড়াই হাজার মানুষ এখনও ভোটার তালিকায় অন্ত’ক্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। বিগত বছরগুলোতে পাঁচবাঙালা গ্রামের মানুষ গ্রামের কোড নং স্থ্পান ও নিজ গ্রামের নামে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চেষ্টা করেও কোন ফল পায়নি। ফলে এ গ্রামের আড়াই হাজার মানুষ এখন নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এ গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ জামায়াত-বিএনপি সমর্থক হওয়ায় ফ্যাসিষ্টদের দোষররা তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। একারণে এ গ্রামের আড়াই হাজার ভোটার ও তাদের পরিবার, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন কার্ড,ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন দালিলিক কাগজ আগ বাঙালা গ্রামের কোড বসিয়ে করতে হচ্ছে। এ যেন নিজ দেশেও পরবাসী পাচ বাঙালার কয়েক হাজার মানুষ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত গ্রামের কোড নম্বর স্থাপন ও বঞ্চিতদের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করণের দাবী জানান গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

পাচ বাঙালা গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক মাওঃ আব্দুর রহমান জানান, তিনি জন্মগতভাবেই পাচ বাঙালার মানুষ হলেও তার জন্মনিবন্ধন ও ছেলে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন পাচ বাঙালার নামে নেই, অন্য গ্রামের নামে ভোটার হয়েছেন, জন্ম নিবন্ধন করছেন। এ দুঃখের শেষ নেই। গ্রামের কোড নম্বও নেই, তাই ভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা হিসেবেইা তাকে পরিচিত হতে হচ্ছে। কলেজ ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, আমরা পাচ বাঙালা গ্রামের বাসিন্দা পরিচয় দিলেও ভোটার আইডি কার্ডে পার্শ¦বর্তি আগ বাঙালা গ্রামের বাসিন্দা রয়েছেন। জন্মনিবন্ধনসহ নানা কাগজপত্রে নিজের গ্রামের নাম নেই এটা দুঃখজনক ।

গৃহবধূ আম্বিয়া বেগম জানান, আমরা অন্য গ্রামের ভোটার হিসেবে ভোট দেই। নিজের গ্রামের নামে কোড নেই তাই আগ বাঙালাই আমাদের পরিচয়। এটা সন্তানরা মেনে নিতে চায়না।

পাচ বাঙালা গ্রামের প্রধান শাহজাহান ভদ্র জানান, পাচ বাঙালা অতীতে সমৃদ্ধ গ্রাম ছিলো। আমাদের গ্রাম থেকে ইউপি নির্বাচনে একজন মেম্বর নির্বাচিত হতো। এক গ্রাম নিয়ে একটি ওয়ার্ড ছিলো। নদী ভাঙনে অস্তিত্ব হারানোর পর গ্রামের অস্তিত্বও যেন হারিয়ে গেছে। সবাই কাগজে কলমে অন্য গ্রামের বাসিন্দা। এ কথায় পরবাসী।

১১নং সোনাতনী ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, নিকট অতীতে এই গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ছিলো। নদীগর্ভে গ্রামটির অস্তিত্ব বিনাশ হয়। নতুন করে দৃশ্যত হয়েছে গ্রাম। কিন্তু কোড না না থাকায় নিজ নামে ভোটার তালিকা নাই। তবে বহ্চিত ভোটারদের ভোটার করা সময়ের দাবী।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার শুভ আল হোসাইন জানান, গ্রামটির কোড সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করণের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশিল্ষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করছেন। ওই গ্রামের যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হননি তাদের ভোটার হওয়ার পথ চলমান রয়েছে।